আনহার চৌধুরী
১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শান্তির আদর্শ বাস্তবায়নে প্রয়োজন নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সুশাসন

একজন বাঙালি হিসেবে যেহেতু বাঙালিদের সাথে সম্পর্কিত তাই আমাকে ভাবায়। বিষয়টির ব্যাপ্ত এইযে, পৃথিবীর বড়-বড় নেতার মৃত্যু ট্রাজেডি স্পর্শ করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ২০২৪ এর জুলাই যোদ্ধা হয়ে শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে। যে ছাত্রনেতা তাঁর সহযোদ্ধা ও দেশের জনগণকে নিয়ে গণসংস্থাকে মর্যাদা-বাংলা-হত্যা করা যায় না, কারণ, ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে কিন্তু তাঁর আদর্শের মৃত্যু নেই। এরাই মর্যাদাবান ও রণনীতি সৃষ্টি করে। এ ধরণের রণনীতিতে যারা ধৈর্য্যহীন বা অসমর্য্যাদার আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য দাড়িয়ে থাকেন তাঁদের কৈফিয়তের সুযোগ থাকে। রাজনীতির প্রকৃত অর্থ হচ্ছে জনগণের জনদ্ধার করা। যার মাধ্যমে ব্যক্তি; দল ও তাঁর সম্মান দৃঢ় হয়। প্রতিটি প্রেম থেকে, যা অন্যকে দিলে নিজে ও পাওয়া যায়।

 

 

সম্মানিত পাঠক মাফ করবেন। আজকের প্রসঙ্গ “সত্য বলুন সুপথে চলুন দ্বিধাহীন চিত্তে” নিয়ে লেখা হলেও এর প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক কী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হবে তাতে আমার পক্ষে “অন্ধের হস্তী দর্শনের” ন্যায় হিমশিম খাচ্ছি।

 

 

এখানে বলা বাহুল্য যে, বাংলাদেশে ২০২৪ এর জুলাই যোদ্ধাদের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতিটির দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। জনগণের কাছে প্রাক্তন স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রী, এমপি ও দোসরদের নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে জনবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং আপোষহীন বিপ্লব ইতিপূর্বে প্রাক্তন নেতা-নেত্রীদের ক্ষমতা লোপ করে দিয়েছে এবং দেশবাস করেছে। বিপ্লব ছবি আঁকা বা সেলাই করার মতো সমিতি, সংঘত, ধীর-স্থির কোনো কাজ নয়। বিপ্লব হচ্ছে একটা অভ্যুত্থান। যেখানে একশ্রেণী অন্যশ্রেণীকে উচ্ছেদ করে। বিপ্লব এখন অন্তর্বর্তী সরকারের ভাগ্যকে নির্ধারণ করেছে। আমরা এ বিপ্লবকে গণতন্ত্রের বড় বিজয় হিসেবে দেখছি। একটি দেশের অবস্থা রাষ্ট্রের যারা কর্ণধার তাঁরা গণতন্ত্রের বুলির আড়ালে সাধারণ জনগণের আমানত দিকে খেয়ানত করে থাকেন তাই নতুবা দেশবাসী সুযোগে অবলম্বন করেছেন। শেখ হাসিনা সরকার ও তাঁর মন্ত্রী, এমপি এবং দোসরদের চুরির ঘটনা, ঘুষ ও দুর্নীতির ঘটনা জনগণ প্রত্যক্ষ করেছেন।

 

 

এদেশ এদেশে শীর্ষস্থানীয় নেতা-নেত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপি, প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে অত্যন্ত বিরল। সলিসিটিয়ানেরা সেবা কথা যখন ও বলেন না, সব সময়েই প্যাঁচ খেয়ে কথা বলেন। তবে কেবল ধূর্তবাদী হলেই চলবে না জনগণের স্বার্থে কিছু কাজও করতে হবে। ভোটাররা বলেছেন যে, রাজনীতিতে অসৎ এবং তাঁদের মতৈক্য, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের অভাব রয়েছে। অথচ তারা যেসব কথা বলেন ছিল আত্মমত দেখান সেগুলো কেবল মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ বলেছেন যে, রাজনীতিতে কখনো তাঁদের ভুল বা অজ্ঞতা স্বীকার করেন না, অথবা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রশংসা করেন না। দেশের জন্য নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই।

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের মূল অগ্রাধিকার হচ্ছে দুর্নীতি দূর করা। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনে উডু-উডু ভাব। নিখুঁত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিনটি ট্রডিম্যাশন করতে পারেন। এবারের নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন-নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখ। নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ সহ নাজি ও প্রসূনদের সম্মান জানে। নির্বাচনে হার-জিতের কোনো বৈষম্য নেই। শুরু থেকেই অবশ্যই নির্বাচন করবেন। গণতন্ত্র চর্চা করছেন। আমার কাছে মনে হয় ওসমান হাদীর ন্যায় নতুনদের আগমনেই রাজনীতির অঙ্গন মুখরিত হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের প্রতিটি দুর্ভগের মুহুর্তে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন জাতির নির্দেশনা দিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনই জাতির দুর্ভগের মুহুর্তে একমাত্র আস্থায় দৃপ্ত বিশ্বাস।

 

 

যখন একজন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে তাঁর মেধা, সময় ও পারিপার্শ্বিকতা ফুটে উঠে তখন তাঁকে আমরা পরিপূর্ণ সরকার বলে স্বীকার করে নিতে পারি। নোবেলজয়ী প্রফেসর ডক্টর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেব এ কালের একজন সর্বজন স্বীকৃত সরকার। স্বাধীনতা নিষ্কন্ট রাখার জন্য পৃথিবীর প্রতিটি দেশে অভ্যুত্থান ঘটে। তাতে জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রাধান্য পায়। সফল সমস্ত জনগণই সেনাবাহিনীর স্থান দখল করে।

 

 

দেশের মতবিনিময়ে অভিযান ও উদ্ধার কার্য চালানো হয় তার সবটুকুই সেনাবাহিনী করে থাকে। সত্যের সঙ্গে সংগতি রেখে কেবল বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের সব সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন হচ্ছে আমাদের জাতি, দেশে কোনো অঘটন ঘটলে সংকটে প্রাচীন দলগুলো ও বলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এটাই করবে। বিপদে পড়লে দেশবাসী ভাগ্যের বলেন- বিশ্ববিদ্যালয়কে দিচ্ছে। ভরসা করার চেষ্টা করেন ছাত্রদের ওপর। এই সম্মানবোধ টা ধরে রাখতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সাহয্য ও প্রাণপ্রয়োজন।

 

ছাত্রদের উচিত আদর্শ ছাত্র হিসেবে সমাজে পরিচিত হওয়া। সমাজে নীতি ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হওয়া। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীকে আইডেন্টিফাই করার জন্য পুলিশের পিছনে বিশেষ পুলিশ মোতায়েন করা প্রয়োজন। যেখানে যেখানে করপটেড পুলিশ অর্থাৎ দুর্নীতি পরায়ন পুলিশ আছে সেই পুলিশ বাহিনী আগাছার ন্যায় নিড়ানী দিয়ে নিঃশেষ করে দিতে হবে। যে মা গর্ভভারে জর্জরিত হয়ে ১০ মাস ১০ দিন সন্তানকে হাড়পিঞ্জরের তলে বহন করেছিলেন, বহু বছর ধরে তিলে তিলে যত্ন করে বড় করে তুলেছিলেন, সেই সন্তান উচ্ছন্নে যায়, গোল্লায় যায়, তা কি কোন মা সহ্য করতে পারবেন? এখানে প্রাসঙ্গিক হিসেবে উল্লেখ্য যে, সময়ের সঙ্গে তাল রেখে নবীন প্রজন্ম কোথাও সংঘবদ্ধ, কোথাও বা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের ঘরে ধরে রাখা যাচ্ছে না, ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে— নানা পারিপার্শ্বিকতার কারণে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিবর্তনকে অনেকেই একটি অভাবনীয় অভ্যুত্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

 

 

যাই হোক, বর্তমান অবস্থা যাচাই জটিল হলেও দেশে সংশ্লিষ্ট সকলে জাতীয় স্বার্থকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিলে গণতন্ত্রের পথে সফল যাত্রা শুরু করা অবশ্যই সম্ভব। কিছু কিছু বিষয়ে সমস্ত জাতিকে একমত থাকতে হবে। আমাদের জাতির ভবিষ্যতের জন্য লড়তে হবে, তবে এ লড়াই কোনো যুদ্ধ ময়দানে নয়, জাতির স্বনির্ভরতা অর্জনে।

 

 

আমাদের স্বাধীনতা এদেশের মানুষেরই নির্মাণ। স্বাধীনতা সংরক্ষণ করাই তরুণ সমাজের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। সদিচ্ছাতে তার পরেই এদেশের শান্তি। ইতিহাস সব কথা সাক্ষ্য দেয়, বীরের রক্তস্রোত ও আত্মদান কখনো বৃথা যায় না। বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বৈরাচারী সরকার শেখ হাসিনা যখন গৃহযুদ্ধের মতো একটি ছোট খাটো যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধের পীড়িত যন্ত্রণাতে বালক-পালো যখন গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছিলেন শিশু, যুবক, প্রৌঢ়রা, শান্তি যখন নির্বাসিত হয়েছিল ঠিক তখনই গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র-জনতা। এ ব্যাপারে কার বেশি বিশ্বস্ততা আইডেন্টিফাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের অস্তিত্বের ওপরে দুষ্টু মানুষের আঘাত এসেছে।

 

 

এই আগ্রাসী আধিপত্যবাদী ভারত সরকার নরেন্দ্র মোদীর প্রতি দেশের সরকার ও জনগণ তাদের মুখের ভাষায় দিচ্ছে ঘৃণা। মানুষের মন, মস্তিষ্ক, উচ্চারণ ও চিন্তচেতনায় দেশের শুদ্ধতাই বশে টিকে আছে। দেশের মর্যাদা ও বৈষম্য শুধু বিপজ্জনক নয়, লজ্জাকর ও। উপরোক্ত বিষয়াদি প্রতি বিবেচনা করে আমাদের সচেতন রাজনৈতিক দলগুলো যদি সম্মিলিত ভাবে গণতন্ত্র উত্তরণের প্রচেষ্টা চালাতে পারেন, তাহলে এদেশের অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব হবে। দল বড় কথা নয়। দেশপ্রেম ও সন্ত্রাস, পেশী… শক্তি, কালেশন, দুর্নীতি ও অস্ত্রের প্রভাব থেকে অনেকটা হলেও দেশকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের ভাবনা যে, নির্বাচন পরবর্তী সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের জন্য বিশ্ব বলেন এই সরকারই গদীতে থাকুক।

 

 

নৈতিক পুনর্জাগরণের প্রশ্নে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনদর্শনে যে ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা আছে, তা কেবল ধর্মীয় নয়- সামাজিক নীতির ভিত্তি। অন্যের অধিকার রক্ষা, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষমতার অপব্যবহার না করা-এসবই এক নৈতিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। ধর্ম যদি মানুষকে বিনয়ী, দায়িত্বশীল ও ন্যায়পরায়ণ না করে, তবে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে।

 

 

সবশেষে প্রশ্ন-বাংলাদেশ কোন পথে যাবে? বিভাজনের পথে, নাকি ন্যায় ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের পথে? টেকসই পরিবর্তন তখনই আসে, যখন জনগণ সচেতন, নেতৃত্ব নৈতিক এবং প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়। এই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বাংলাদেশ মর্যাদাবান, স্থিতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে উদাহরণ হতে পারবে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জীবন রক্ষাকারী স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের কাহিনি

যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাত পরিবেশের শোষণ প্রতিরোধ

প্রথমবারের মতো উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চোখে দেখলো মানুষ

পাখির ভোজ উৎসব দেখে বিজ্ঞানীদের স্বস্তি

৫৪ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা

মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শান্তির আদর্শ বাস্তবায়নে প্রয়োজন নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সুশাসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন হোক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ

মার্চে নিউইয়র্ক অলবানি রুটে পূর্ণ ট্রেন সেবা ফিরছে

সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার জমকালো আয়োজনে দুই বছর পূর্তি উদযাপন

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) সভাপতি প্রিন্স আলম, সাধারণ সম্পাদক জনি

১০

দুর্নীতির দায়ে দুই দেশের নেতাকে লক্ষ্য করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

১১

নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে অপতথ্যের বিস্তার, অধিকাংশই ভারত থেকে

১২

মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাংলাদেশি কনসুলেট স্থাপনে মার্কিন অনুমোদনের অপেক্ষায়

১৩

এপস্টেইন নথিতে প্রভাবশালী যত ব্যক্তি

১৪

ইরান সংকট: মুক্তি বনাম মালিকানা বদলের অন্তহীন ফাঁদ

১৫

চাঁদে মানব শহর গড়তে ১০ বছরের টাইমলাইন দিলেন ইলন মাস্ক

১৬

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

১৭

নির্বাচন ছাড়াই যাঁরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন

১৮

কানাডার সব পণ্যে ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

১৯

অভিবাসীদের আতঙ্কের নাম এখন গ্রেগরি বোভিনো

২০