বাংলা সংবাদ ডেস্ক
৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইমিগ্রেশন দমন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে মেগা ডিটেনশন কেন্দ্রের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত, আটক ও দ্রুত বহিষ্কারের লক্ষ্যে বিস্তৃত ডিটেনশন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই লক্ষ্য পূরণে অন্তত আটটি অঙ্গরাজ্যে বড় আকারের শিল্পগুদাম কেনা বা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেগুলোকে অস্থায়ীভাবে “মেগা ডিটেনশন” কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (উঐঝ) মেরিল্যান্ডে একটি ভবন ১০২ মিলিয়ন ডলারে, অ্যারিজোনায় আরেকটি ভবন ৭০ মিলিয়ন ডলারে কিনেছে। এছাড়া মিসৌরির কানসাস সিটিতে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের একটি বিশাল গুদামও পরিদর্শন করা হয়েছে সম্ভাব্য ডিটেনশন কেন্দ্র হিসেবে। তবে এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে সিটি কাউন্সিল একটি প্রস্তাব পাস করেছে।

কানসাস সিটির মেয়র কুইন্টন লুকাস বলেন, “এ ধরনের ডিটেনশন ব্যবস্থা কতটা মানবিক, তা নিয়ে আমার বড় সন্দেহ আছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত গুদামটি রূপান্তরিত হলে সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৭,৫০০ জন রাখা হতে পারে।

 

 

ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট পর্যালোচনা করা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ওঈঊ)-এর একটি খসড়া নথিতে বলা হয়, বহিষ্কারের আগে অভিবাসীদের অস্থায়ীভাবে রাখার জন্য ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ জন ধারণক্ষমতার অন্তত সাতটি বড় গুদাম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য কেন্দ্রগুলো লুইজিয়ানা, ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া ও মিসৌরিতে অবস্থিত।

 

 

আইস-এর দাবি, নতুন স্থাপনাগুলো- কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াবে। খরচ কমাবে, প্রক্রিয়াকরণের সময় ও আটক থাকার মেয়াদ কমাবে, বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করবেএকই সঙ্গে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। তবে পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যেই তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকদের একাংশ বলছেন-এ ধরনের বৃহৎ আটককেন্দ্রগুলো মানবিক মানদণ্ড লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ইউজিন ভিন্ডম্যান ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ডে প্রস্তাবিত একটি “মেগা ডিটেনশন সেন্টার”-এর বিরোধিতা করেন, যেখানে সর্বোচ্চ ১০,০০০ জন রাখা হতে পারে।

 

 

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমার পরিবার সাবেক সোভিয়েত ইউক্রেনের দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে মাত্র ৮০০ ডলার নিয়ে এই দেশে এসেছিল আমেরিকান ড্রিমের খোঁজে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা তখনই সেরা জাতি হই, যখন সবাইকে মর্যাদা ও সম্মান দিয়ে দেখি। নিরাপদ সীমান্ত রাখা সম্ভব, নিষ্ঠুর না হয়েও।” ভিন্ডম্যানের ভাষায়, স্ট্যাফোর্ডে প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি “নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত উদাহরণ” এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ইচ্ছারও পরিপন্থী। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে দমনমূলক পদ্ধতির সম্প্রসারণ নির্দেশ করছে।একদিকে প্রশাসন বলছে এটি আইন প্রয়োগে গতি আনবে, অন্যদিকে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন অতিরিক্ত ভিড়, স্বাস্থ্য ও মানবিক সংকট, দীর্ঘমেয়াদি আটক এর মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

 

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় নেতা নিজ নিজ দলের কর্মসূচি ও জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় রাজনীতি, নির্বাচন, জোটুসমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনার প্রশ্নে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে একে-অন্যের সমালোচনা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাকযুদ্ধ শুধু ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, বরং দলীয় কৌশল ও ভোটারদের কাছে নিজস্ব অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টারই অংশ।

 

 

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছেন। অন্যদিকে ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক অবস্থান, নীতিুভিত্তিক রাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় মূল্যবোধের প্রশ্ন সামনে আনছেন। তবে বক্তব্যের ভেতরে পারস্পরিক ইঙ্গিতপূর্ণ সমালোচনা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান পরিষ্কার হওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও বক্তব্যের ভাষা ও সুর ভবিষ্যৎ সমঝোতা ও জোট রাজনীতির সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সরকারবিরোধী রাজনীতির ভেতরে পারস্পরিক দূরত্ব কতটা বাড়ে বা কমে তা নির্বাচনী ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, দুই শীর্ষ নেতার এই বাকযুদ্ধ নির্বাচনী রাজনীতিকে আরও গতিশীল করে তুললেও তা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে রাজনৈতিক মহলের এখন সেদিকেই দৃষ্টি ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জীবন রক্ষাকারী স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের কাহিনি

যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাত পরিবেশের শোষণ প্রতিরোধ

প্রথমবারের মতো উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চোখে দেখলো মানুষ

পাখির ভোজ উৎসব দেখে বিজ্ঞানীদের স্বস্তি

৫৪ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা

মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শান্তির আদর্শ বাস্তবায়নে প্রয়োজন নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সুশাসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন হোক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ

মার্চে নিউইয়র্ক অলবানি রুটে পূর্ণ ট্রেন সেবা ফিরছে

সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার জমকালো আয়োজনে দুই বছর পূর্তি উদযাপন

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) সভাপতি প্রিন্স আলম, সাধারণ সম্পাদক জনি

১০

দুর্নীতির দায়ে দুই দেশের নেতাকে লক্ষ্য করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

১১

নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে অপতথ্যের বিস্তার, অধিকাংশই ভারত থেকে

১২

মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাংলাদেশি কনসুলেট স্থাপনে মার্কিন অনুমোদনের অপেক্ষায়

১৩

এপস্টেইন নথিতে প্রভাবশালী যত ব্যক্তি

১৪

ইরান সংকট: মুক্তি বনাম মালিকানা বদলের অন্তহীন ফাঁদ

১৫

চাঁদে মানব শহর গড়তে ১০ বছরের টাইমলাইন দিলেন ইলন মাস্ক

১৬

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

১৭

নির্বাচন ছাড়াই যাঁরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন

১৮

কানাডার সব পণ্যে ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

১৯

অভিবাসীদের আতঙ্কের নাম এখন গ্রেগরি বোভিনো

২০