মিশিগানের ওয়ারেন শহরে ৮ ও ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যমুখর “বইমেলা ২০২৫”। আনন্দমঞ্চে অনুষ্ঠিত এই মেলায় স্থানীয় এবং আঞ্চলিক শিল্পী, লেখক ও পাঠকেরা মিলিত হয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। মেলাটি আয়োজন করেন মৃধা বেঙ্গলি কালচারাল সেন্টার।
প্রথম দিন, ৮ নভেম্বর শনিবার, বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় দুপুর ১টায়। একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় গণিত অলিম্পিয়াড এবং আর্ট কম্পিটিশন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার বিতরণ করা হয় বিকাল ৫টায়। মেলায় অংশগ্রহণকারীরা দ্বিতীয় দিন রবিবার সকাল ১২টা থেকে শুরু হওয়া সাহিত্য আসরে অংশ নেন। প্রবন্ধ ও উপস্থাপনা, কবিতা ও কাব্যরচনা এবং আলোচনা ও সমালোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি বর্ণাঢ্য হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো, যা সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলেছিল।

সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামের মধ্যে রয়েছে নৃত্য, গান, কবিতা পাঠ এবং সঙ্গীত পরিবেশনা। গ্রুপ সঙ্গীত থেকে শুরু করে “জাতীয় সঙ্গীত ও দেশপ্রেমের মেডলি” পরিবেশন করেন রুমানা রশিদ, নিলিমা রায়, রাজশ্রী শর্মা, কামরুন হায়দার ও হায়দার। মঞ্চে উপস্থিত শিল্পীরা “ফাগুনের মোহনায়” এবং “বেদনায়” মতো বাংলা লোক নৃত্য ও কবিতা পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। নৃত্য পরিবেশন করেন মূর্ছনা মিত্র, আরিয়্যা ব্যানার্জী, ইমনি ত্রিপাঠি, অর্পিতা সেন ও মৃত্তিকা সরকার। গান পরিবেশন করেন শর্মা চক্রবর্তী, প্রীথা দেব, আতর্য রায় ও সুমিত্রা সেন।
প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে পাঠক এবং দর্শকরা বইমেলায় নতুন প্রকাশনা ও সাহিত্যকর্ম ঘেঁটে দেখার সুযোগ পান। অংশগ্রহণকারীরা মেলাকে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “এ ধরনের অনুষ্ঠান আমাদের সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য এবং সৃজনশীলতা বাড়ায়, মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীগুলো হলো মুক্তধারা প্রকাশনী, প্রথমা প্রকাশনী, বর্ণমালা মিশিগান ও বাতিঘর প্রকাশনী। মেলার আহ্বায়ক ছিলেন ডা. দেবাশীষ মৃধা, সদস্য সচিব ছিলেন মৃদুল কান্তি সরকার, যুগ্ম আহ্বায়কগণ ছিলেন চিন্ময় আচার্য ও রূপু আহমেদ সহ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন