রাশিয়া-ইউক্রেনের বিধ্বংসী যুদ্ধ, যেখানে পারমাণবিক হুমকি এখন রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ, তাইওয়ান নিয়ে পরাশক্তিদের দ্বন্দ্ব এবং ইরানের ওপর সামরিক হামলার অস্থিতিশীল পরিস্থিতিুএই সবকিছুই প্রমাণ করে, একটি ভুল পদক্ষেপ পৃথিবীকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। এমন এক সময়ে ৬ নভেম্বর পালিত হবে ‘যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে পরিবেশের শোষণ প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস’, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধের সবচেয়ে নীরব শিকার পরিবেশ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে নতুন সেন্টিনেল মিসাইল, কলাম্বিয়া-শ্রেণির সাবমেরিন এবং বি-২১ রাইডার স্টেল্থ বোমারু বিমান মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করছে, সেখানে রাশিয়াও সারমাট আইসিবিএম এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত বুরেভেস্টনিক ক্রুজ মিসাইলের মতো বিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন করছে।
ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘জার বোম্বা’, যা ১৯৬১ সালে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এর ক্ষমতা ছিল ৫০ মেগাটন, যা হিরোশিমার বোমার চেয়ে প্রায় ৩,৮০০ গুণ বেশি। এর বিস্ফোরণের আলো ১,০০০ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা গিয়েছিল এবং ভূকম্পন তরঙ্গ পৃথিবীকে তিনবার প্রদক্ষিণ করেছিল।
যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে পরিবেশের ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক দিবসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে যুদ্ধ কীভাবে ফসল পুড়িয়ে, মাটি বিষাক্ত করে এবং জল দূষিত করে পরিবেশকে ধ্বংস করে। পারমাণবিক অস্ত্র এই ধ্বংসযজ্ঞের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ। তবে বোমা ব্যবহারের অনেক আগেই এর পরিবেশগত ক্ষতি শুরু হয়। পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া বিশ্বজুড়ে বিশাল এলাকা এবং জলাশয়কে স্থায়ীভাবে দূষিত করছে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই দূষণ পরিষ্কার করতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হবে বলে অনুমান করা হয়।
তাই এমন ভয়াবহতা থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে সাধারণ মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য।
মন্তব্য করুন