২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দেশটি এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা জানিয়েছে, ফিফার থেকে ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের অনুরোধ এখনো বহাল আছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো জবাব দেয়নি ফিফা। তিনি জানান, যদি আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, তাহলে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে
রোববার (০৫ এপ্রিল) ডেইলি সবাহর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ আয়োজনে ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের জাতীয় দলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে খেলা নিরাপদ নাও হতে পারে। এ প্রসঙ্গে দোনিয়ামালি বলেন, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী আয়োজক দেশকে অংশগ্রহণকারী সব দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না দেওয়া হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ইরান জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি উল্লেখ করে দোনিয়ামালি অভিযোগ করেন, একই ধরনের পদক্ষেপ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিল দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
দোনিয়ামালি জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তুরস্কে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে ইরানের ফুটবলাররা কালো বাহুবন্ধনী পরে এবং শিশুদের স্কুলব্যাগ প্রদর্শন করে যুদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ ঘটনাকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন