অটিজম শিশুদের বিকাশে সময়, মনোযোগ ও ভালোবাসা অতীব জরুরি। তারা আচরণগত ও সংবেদনশীলতায় আলাদা, তাই তাদের প্রয়োজন বাড়তি ধৈর্য্য ও বোঝাপড়া। আধুনিক জীবন যতই ব্যস্ত হোক, পরিকল্পনা ও সচেতনতা থাকলে সন্তানকে মানসম্মত সময় দেওয়া সম্ভব।
১. প্রতিদিন মাত্র ১৫-৩০ মিনিট একান্ত সময়: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় শুধু সন্তানের জন্য রাখুন।মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ ছাড়া।একসঙ্গে খেলুন, আঁকুন, গল্প বলুন বা তার পছন্দের কিছু করুন।
২. রুটিন তৈরি করুন: প্রতিদিন একই সময়ে সময় দিন,যেমন সকালে বা ঘুমানোর আগে।অটিজম শিশুদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্যতা মানসিক স্বস্তি দেয়।
৩. দৈনন্দিন কাজে সন্তানকে যুক্ত করুন: রান্না, বাজার বা ঘরগোছার মতো কাজে তাকে ছোট দায়িত্ব দিন।এতে সময়ও কাটবে, আবার সে শিখবে সামাজিকতা ও দায়িত্ববোধ।
৪. আনন্দময় ও অর্থবহ সময় দিন: তার আগ্রহকে গুরুত্ব দিন, আবেগ বোঝার চেষ্টা করুন।বোঝাপড়াই তার মনে নিরাপত্তা ও ভালোবাসা তৈরি করবে।
৫. সহযোগিতা নিন: সহায়তা নিন, একা নন আপনি।স্থানীয় সাপোর্ট গ্রুপ, অনলাইন কমিউনিটিতে যুক্ত হোন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।যেমন:স্পিচ থেরাপিস্ট,বিহেভিয়ার থেরাপিস্ট ইত্যাদি।
৬. নিজের যত্ন নিন: নিজের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা অটিজম
শিশুর দেখভালে গুরুত্বপূর্ণ।প্রতিদিন নিজের জন্য কিছু সময় রাখুন।হাটাহাটি, মেডিটেশন, পছন্দের কাজ করুন। অটিজম নিয়ে জীবনযাপন কঠিন, তবে ভালোবাসা ও ধৈর্য্যই পারে পথ সহজ করতে। ব্যস্ততার মাঝেও সচেতন ও পরিকল্পিত সময় দেওয়া যায়। বাবা-মায়ের ভালোবাসা, সময় ও সহানুভূতিই একটি অটিজম আক্রান্ত শিশুর জীবনের সবচেয়ে বড় সহায়।
মন্তব্য করুন