নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের মেয়েদের বিজয়োল্লাস সকল বাংলাদেশির প্রাণে তৃপ্তি দিয়েছে। এমন সাফল্যের নেপথ্যে কত ঘাম, কত শ্রম, কত ত্যাগ, কত প্রতিকূলতা গাথা আছে তা কেবল জানে আমাদের বীরকন্যারা। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরতে তাদের নিরলস সাধনা, কঠিন পরিশ্রম, একাগ্রতা, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাবের প্রশংসা করছি। সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী দলকে হৃদয়ের অন্তঃস্থল হতে নিবেদন করছি ভালোবাসা। ফাইনাল ম্যাচের পূর্বে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সানজিদার কথাগুলো মন ছুঁয়ে গেছে, সে বলেছে, ‘যাঁরা আমাদের এই স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে উৎসুক হয়ে আছেন, সেই স্বপ্নসারথিদের জন্য এটি আমরা জিততে চাই। নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিদান আমরা দিতে চাই। ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনীকে এক পাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের জন্য এটি জিততে চাই। আমাদের এই সাফল্য হয়তো আরও নতুন কিছু সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া পেতে সাহায্য করবে। অনুজদের বন্ধুর এই রাস্তাটুকু কিছু হলেও সহজ করে দিয়ে যেতে চাই।’
এই অল্প কথাগুলোই বলে দিচ্ছে তাঁদের আত্মবিশ্বাস কতটুকু দৃঢ় ছিলো। শুধু ফুটবল খেলায় নয়, আমাদের মেয়েগুলো কী পরিমাণ দারিদ্র্যের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত লড়ছে বিজয়ের পর এখন সে চিত্রগুলোও ওঠে আসছে। আশা করবো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বিজয়ের রেশ ধরে রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এদিকে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আবুধাবিতে রোববার ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বাছাইপর্বের ফাইনালে উঠেই আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এ সাফল্যে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে জানাই অভিনন্দন।
মেয়েদের এই সাফল্যের খবরের সঙ্গে আরেকটি সুসংবাদও আমাদেরকে আনন্দিত করেছে সেটি হলো বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা গ্রামের সন্তান হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরীম সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে চতুর্থ শাখায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে। বিশ্বের ১১১টি দেশ থেকে ১৫৩ জন প্রতিযোগী অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। মাত্র ১৩ বছসী তাকরীম সেখানে লড়াই করে দেশের জন্য এমন সাফল্য নিয়ে আসায় জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
আমরা সর্বক্ষেত্রেই এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের মেধা-মনন কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বুকে এক ইতিবাচক বাংলাদেশ তুলে ধরতে চাই। হাজারও প্রতিবন্ধকতা, নানা বাধা-বিপত্তি আমাদের সম্মুখে আসবে। সকল বাঁধার প্রাচীর ভেঙে আমরা বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ উন্নত দেখতে চাই।
মন্তব্য করুন