
মার্কিন উদ্যোক্তা ব্রায়ান জনসন যৌবন ফিরে পেতে বছরে ২ মিলিয়ন ডলার খরচ করছেন । এই জৈবপ্রযুক্তি উদ্যোক্তার প্রকৃত বয়স ৪৫ বছর। কিন্তু সম্প্রতি এক মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, কার্যকারিতার দিক থেকে তার হার্ট ৩৭ বছর বয়সী মানুষের মতো, ত্বক ২৮ বছর, ফুসফুস এবং ফিটনেস ১৮ বছরের তরুণের মতো। ব্লুমবার্গের বরাতে বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসন মাত্র ৩০ বছর বয়সেই নিজের ভাগ্য গড়ে নিয়েছিলেন; যখন তিনি তার পেমেন্ট প্রসেসিং কোম্পানি ব্রেইনট্রি পেমেন্ট ৮০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেন।বর্তমানে তিনি এমন একটি রুটিন ফলো করছেন যা তার শারীরিক বয়স কমিয়ে আনতে সহায়তা করছে।
ব্লুমবার্গকে জনসন জানিয়েছেন, তার ৩০ জন চিকিৎসক এবং পুনরুজ্জীবন সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি টিম রয়েছে; যারা তার প্রাত্যহিক জীবনযাপন তত্ত্বাবধান করছেন।
ব্রায়ান জনসনের ইচ্ছা তার মস্তিষ্ক, যকৃত, কিডনি, দাঁত, ত্বক, চুল, লিঙ্গ এবং মলদ্বারসহ সমস্ত প্রধান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেনো শেষ পর্যন্ত কিশোর বয়সের মতো কাজ করে।
বর্তমানে জনসনকে একটি নিয়মের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে প্রতিদিন। প্রতি রাতে ঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং দৈনিক এক ঘন্টা ব্যায়াম করাসহ সপ্তাহে তিনবার ভারী ব্যায়াম করতে হয় তাকে। এছাড়াও প্রজেক্ট ব্লুপ্রিন্ট নামে পরিচিত এই উদ্যোগের জন্য জনসনকে প্রতিদিন একটি কঠোর নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হয়। যেখানে দৈনিক ১,৯৭৭ ক্যালোরির বেশি কোনভাবেই গ্রহণ করেন না তিনি।
জনসন বলেন,আমি যা করি তা খুবই কঠোর শোনাতে পারে, কিন্তু আমি প্রমাণ করার চেষ্টা করছি যে নিজের শারীরের ক্ষয় অনিবার্য নয়।
জনসন কার্নেল নামে একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই প্রতিষ্ঠান ৫০ হাজার ডলার দামি এমন এক ধরণের হেলমেট তৈরি করেছে যা, মস্তিষ্কের সংকেত এবং দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার ক্ষেত্রে ওষুধ এবং মেডিটেশনের প্রভাব পরিমাপ করতে পারে।
প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠেন জনসন। এরপর তিনি সব ধরণের স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য দুই ডজন পরিপূরক ডোজ গ্রহণ করেন। এক ঘণ্টা কাজ করেন। ক্রিয়েটাইন এবং কোলাজেন পেপটাইড মিশ্রিত সবুজ রঙের জুস পান করেন। চা-গাছের তেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জেল দিয়ে ধুয়ে দাঁত ব্রাশ করেন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে বিশেষ ধরণের চশমা পরেন জনসন। যা নীল আলো থেকে চোখকে রক্ষা করে।
নিয়মিত শরীরের বিভিন্ন উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রতি মাসে আল্ট্রাসাউন্ড, এমআরআই, রক্ত পরীক্ষার এবং কোলনোস্কোপি মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
ঘুমানোর সময় জনসনকে এমন একটি যন্ত্রের সাথে যুক্ত করা হয় যা রাতে তার ইরেকশনের সংখ্যা গণনা করে। এছাড়া শরীরের ওজন, ভর, চর্বি, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা এবং হার্ট-রেটের তারতম্য দৈনিক পরিমাপ করা হয়।
জনসনের মেডিকেল টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২৯ বছর বয়সী চিকিৎসক অলিভার জোলমান। তিনি বলেন, তার লক্ষ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, মানুষের প্রতিটি অঙ্গের স্বাস্থ্যগত বয়স ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন