নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কোভিড-১৯ মহামারিকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হোপ নেভার ডাইস’-এর এক আবেগঘন প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য হয়ে ওঠে স্মৃতি, বেদনা, সংগ্রাম এবং আশার এক অনন্য মিলনমেলা।
লেখক, সাংবাদিক ও নির্মাতা শামীম আল আমিনের গবেষণা, পরিকল্পনা ও পরিচালনায় নির্মিত ৪২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই প্রামাণ্যচিত্রে নিউইয়র্ককেন্দ্রিক করোনাকালের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারির সময় মানুষের জীবনে নেমে আসা অনিশ্চয়তা, ভয়, বিচ্ছিন্নতা এবং সেই সঙ্গে সাহস, সহমর্মিতা ও আশাবাদের গল্প অত্যন্ত সংবেদনশীল উপস্থাপনায় ফুটে উঠেছে এতে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রামাণ্যচিত্রটির পোস্টারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। উদ্বোধন করেন কানাডা থেকে আগত কিংবদন্তি সংবাদপাঠিকা আসমা আহমাদ মাসুদ। শুভেচ্ছা বক্তব্যে মেটা ইনফো টেক (এমআইটি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাহবুব সিদ্দিকী প্রামাণ্যচিত্রটির প্রশংসা করে বলেন, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
নির্মাতা শামীম আল আমিন তার বক্তব্যে এই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পেছনের প্রেরণা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, করোনাকালের সেই কঠিন সময়ে মানুষের যে লড়াই, ত্যাগ ও মানবিকতা তিনি কাছ থেকে দেখেছেন, তা সংরক্ষণ করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।
প্রদর্শনীতে উপস্থিত সুধীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা এক নিঃশ্বাসে প্রামাণ্যচিত্রটি উপভোগ করেন। এতে উঠে আসে চিকিৎসক, শিক্ষক, শিল্পী, প্রবাসী কর্মজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা- যা অনেক দর্শকের ব্যক্তিগত স্মৃতিকে নতুন করে নাড়া দেয়।
প্রদর্শনী শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী তাজুল ইমাম, প্রফেসর আব্দুস সেলিম, নাট্যকার মাসুম রেজা, থিয়েটার গবেষক ড. বাবুল বিশ্বাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীম রেজাসহ বিশিষ্টজনেরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা প্রামাণ্যচিত্রটিকে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, সংগীত ও সঞ্চালনায়ও ছিল বৈচিত্র্য। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, সঞ্চালনায় ছিলেন গোপন সাহা। এছাড়া সংগীত পরিবেশন ও কারিগরি সহযোগিতায় যুক্ত ছিলেন একাধিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
সব মিলিয়ে, ‘হোপ নেভার ডাইস’ শুধুমাত্র একটি প্রামাণ্যচিত্র নয়- এটি করোনাকালের অন্ধকার পেরিয়ে মানুষের অদম্য সাহস, মানবিকতা ও আশার এক জীবন্ত দলিল। এই প্রদর্শনী প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের মনে আবারও মনে করিয়ে দিল- সব সংকটের মধ্যেও আশা কখনো মরে না।
মন্তব্য করুন