বাংলা সংবাদ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দুর্নীতির দায়ে দুই দেশের নেতাকে লক্ষ্য করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতির অভিযোগে দুই দেশের নেতার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ মার্শাল আইল্যান্ডস ও পালাউয়ের দুই রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর দুর্নীতির’ অভিযোগ উঠেছে। এজন্য তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তাদের কর্মকাণ্ড ওই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পালাউয়ের সিনেট প্রেসিডেন্ট হকনস বাউলেস এবং মার্শাল আইল্যান্ডসের সাবেক মেয়র অ্যান্ডারসন জিবাস দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। ফলে তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ আত্মসাৎ বা মার্কিন স্বার্থ হুমকির মুখে ফেললে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, বাউলেস পালাউয়ে চীনের স্বার্থে কাজ করার বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছেন। মাইক্রোনেশিয়ার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র পালাউ এখনও তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যা বেইজিংয়ের বিরোধিতার কারণ। অন্যদিকে জিবাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিকিনি রিসেটেলমেন্ট ট্রাস্টের অর্থ অপব্যবহার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এই তহবিলটি মার্শাল আইল্যান্ডসের বিকিনি অ্যাটলে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে গঠিত হয়েছিল। ২০১৭ সালে তহবিলটির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ মিলিয়ন ডলার। পরে এর নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ তহবিলের অর্থ মাত্র ১ লাখ ডলারে নেমে আসে । এ সময়ে ভুক্তভোগীদের অর্থ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়।

 

 

মার্কিন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তহবিলের অর্থ চুরি ও অপব্যবহারের ফলে কর্মসংস্থান হ্রাস, খাদ্যসংকট ও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বেড়েছে। এতে জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চীনের মতো ‘বিদ্বেষী শক্তি’র প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পালাউ ও মার্শাল আইল্যান্ডস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে ছিল এবং পরে স্বাধীনতা লাভ করে। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’ চুক্তির আওতায় রয়েছে। এ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ও প্রতিরক্ষা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

 

 

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা এসব দ্বীপদেশ জলবায়ু পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

 

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষার অংশ। জনস্বার্থের ক্ষমতা ব্যক্তিগত লাভে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেবে। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জীবন রক্ষাকারী স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের কাহিনি

যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাত পরিবেশের শোষণ প্রতিরোধ

প্রথমবারের মতো উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চোখে দেখলো মানুষ

পাখির ভোজ উৎসব দেখে বিজ্ঞানীদের স্বস্তি

৫৪ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা

মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শান্তির আদর্শ বাস্তবায়নে প্রয়োজন নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সুশাসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন হোক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ

মার্চে নিউইয়র্ক অলবানি রুটে পূর্ণ ট্রেন সেবা ফিরছে

সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার জমকালো আয়োজনে দুই বছর পূর্তি উদযাপন

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) সভাপতি প্রিন্স আলম, সাধারণ সম্পাদক জনি

১০

দুর্নীতির দায়ে দুই দেশের নেতাকে লক্ষ্য করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

১১

নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে অপতথ্যের বিস্তার, অধিকাংশই ভারত থেকে

১২

মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাংলাদেশি কনসুলেট স্থাপনে মার্কিন অনুমোদনের অপেক্ষায়

১৩

এপস্টেইন নথিতে প্রভাবশালী যত ব্যক্তি

১৪

ইরান সংকট: মুক্তি বনাম মালিকানা বদলের অন্তহীন ফাঁদ

১৫

চাঁদে মানব শহর গড়তে ১০ বছরের টাইমলাইন দিলেন ইলন মাস্ক

১৬

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

১৭

নির্বাচন ছাড়াই যাঁরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন

১৮

কানাডার সব পণ্যে ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

১৯

অভিবাসীদের আতঙ্কের নাম এখন গ্রেগরি বোভিনো

২০