এম এ হাসান
৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন ছাড়াই যাঁরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুধু ভোটের মধ্যদিয়ে নয় বরং সংবিধান, আইন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মিশ্রণে সম্পন্ন হয়ে থাকে। ভোটে নির্বাচিত না হয়েও সংবিধানের নিয়ম মেনে প্রেসিডেন্ট হওয়া যায়। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই পদে নির্বাচনের যোগ্যতা হচ্ছে আপনাকে মার্কিন নাগরিক হতে হবে। কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স হতে হবে এবং ক্ষমতা গ্রহণের আগে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৪ বছর বসবাস করতে হবে।

 

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে হলে রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন বা স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন। বড় দুই দলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) প্রার্থী নির্বাচন প্রায়শই প্রাইমারি ও ককাসের মাধ্যমে হয়। প্রাইমারি হচ্ছে রাজ্যভিত্তিক ভোট আর ককাস হচ্ছে দলীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের সভা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না।

 

প্রতিটি রাজ্য ভোটারদের মাধ্যমে ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটার নির্বাচন করে। আমেরিকায় মোট ইলেক্টোরাল ভোটার ৫৩৮। প্রেসিডেন্ট বিজয়ী হওয়ার জন্য ২৭০ ভোট প্রয়োজন হয়। কিছু রাজ্যে ডরহহবৎ-ঃধশবং-ধষষ পদ্ধতি প্রয়োগ হয়, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত প্রার্থী পুরো ইলেক্টোরাল ভোট পান। নির্বাচনে দুই ধরনের ভোট হয়। পপুলার ভোট, এই ভোট সাধারণ জনগণ দিয়ে থাকেন। আরেকটি হচ্ছে ইলেক্টোরাল ভোট। এটি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারিত হয়। ইলেক্টোরাল কলেজে কেউ ২৭০ ভোট না পেলে, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে।

 

নির্বাচনে কোনো জটিলতা দেখা দিলে সুপ্রিম কোর্ট বা ফেডারেল আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। নির্বাচন নভেম্বরের প্রথম মঙ্গলবার প্রতি চার বছর পর অনুষ্ঠিত হয়। নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণ করেন ২০ জানুয়ারি। আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে প্রায়শই বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, পারমাণবিক অস্ত্র, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য- সবই প্রায় শীর্ষ নেতার হাতেই। তবে ইতিহাসে সব প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেননি।

 

 

যদি আমরা আমেরিকার ইতিহাসের পাতা উল্টাই, দেখা যায় নয়জন প্রেসিডেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বা অন্যান্য কারণে নির্বাচিত না হয়েও প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে ভাইস প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা গ্রহণ করেন। আমেরিকার গণতন্ত্রে এটাই অন্যতম সৌন্দর্য। এমন নয়জন সৌভাগ্যবান প্রেসিডেন্টের কিছু তথ্য উপস্থাপন করছি।

 

 

জন টেইলর (John Taylor , ১০ম প্রেসিডেন্ট, ১৮৪১-১৮৪৫)

জন টেইলর ছিলেন ইতিহাসের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট যিনি প্রেসিডেন্ট হন, যখন উইলিয়াম হ্যারিসন মাত্র ৩২ দিনের মাথায় মারা যান। টেইলরের জন্য এটি ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আমেরিকার জনগণ তাকে ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ বলে ডাকত। তার শাসনামল বিতর্কময় ছিল। তিনি হুইগ পার্টির সঙ্গে মতপার্থক্য নিয়ে বহিষ্কৃত হন, ফলে জনপ্রিয়তা হারান। নির্বাচনে পুনরায় অংশগ্রহণ করেননি। তবে টেইলর ইতিহাসে প্রথম অভ্যন্তরীণ শক্তি, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং জাতীয় নেতৃত্ব প্রদর্শনের উদাহরণ হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

 

 

মিলার্ড ফিলমোর (Millard Fillmore, ১৩তম প্রেসিডেন্ট, ১৮৫০-১৮৫৩)

ফিলমোর প্রেসিডেন্ট হন জ্যাকারি টেইলরের মৃত্যুর পরে। তাঁর শাসনকালেই বাস্তবায়িত হয় ‘ঈড়সঢ়ৎড়সরংব ড়ভ ১৮৫০’, যা ক্যালিফোর্নিয়াকে দাসবিহীন রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু দক্ষিণী রাজ্যগুলোর মধ্যে দাসপ্রথা নিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। ফিলমোর ব্যক্তিগতভাবে দাসপ্রথার বিরোধী ছিলেন, তবে দেশের ঐক্য রক্ষার জন্য তিনি রাষ্ট্রের নীতিমালা মেনে চলেন। এই নীতির কারণে তিনি দলের কাছেও জনপ্রিয়তা হারান। তিনি নির্বাচনে পুনরায় অংশ নেননি।

 

 

অ্যান্ড্রু জনসন (Andrew Johnson, ১৭তম প্রেসিডেন্ট, ১৮৬৫-১৮৬৯)

আব্রাহাম লিংকনের হত্যাকাণ্ডের পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জনসন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি গৃহযুদ্ধের পর দক্ষিণী রাজ্যগুলোর ক্ষমা দিয়ে থাকেন, যার ফলে অনেক বিদ্রোহী পুনরায় রাজনৈতিক ক্ষমতায় আসে। কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধ, যুদ্ধ সচিব এডুইন স্ট্যানটনের বরখাস্ত, এবং হাউস অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়া- সব মিলিয়ে জনসনের প্রেসিডেন্সি এক কঠিন সময় ছিল। পরবর্তীতে তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি।

 

 

চেস্টার আর্থার (Chester Arthur, ২১তম প্রেসিডেন্ট, ১৮৮১-১৮৮৫)

জেমস গারফিল্ডের হত্যার পরে আর্থার প্রেসিডেন্ট হন। নির্বাচিত না হলেও তিনি দ্বিদলীয় সিভিল সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠা, নৌবাহিনী শক্তিশালী করা, এবং প্রশাসনিক সংস্কার চালু করে দক্ষতার প্রমাণ দেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি শৌখিন ছিলেন এবং অসুস্থতার কারণে পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেননি।

 

 

থিওডোর রুজভেল্ট (Theodore Roosevelt, ২৬তম প্রেসিডেন্ট, ১৯০১-১৯০৯)

থিওডোর রুজভেল্ট ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রনায়কদের একজন। শক্তিশালী নেতৃত্ব, সংস্কারমূলক চিন্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দৃঢ় অবস্থানের জন্য তিনি আজও স্মরণীয়। মাত্র ৪২ বছর বয়সে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। থিওডোর রুজভেল্টের জন্ম ১৮৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর, নিউইয়র্ক সিটিতে। শৈশবে তিনি অ্যাজমা রোগে ভুগলেও শারীরিক দুর্বলতাকে জয় করার দৃঢ় সংকল্প নেন। নিয়মিত ব্যায়াম ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে গড়ে তোলেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ইতিহাস, রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চায় গভীরভাবে যুক্ত হন।

 

 

রুজভেল্ট তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার, নৌবাহিনীর সহকারী সচিব এবং স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধের সময় ‘রাফ রাইডার্স’ বাহিনীর নেতা হিসেবে জাতীয় খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯০০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ১৯০১ সালে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলির হত্যাকাণ্ডের পর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। থিওডোর রুজভেল্টের শাসনামলের কেন্দ্রীয় দর্শন ছিল ‘স্কয়ার ডিল’, যার মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। এই নীতির তিনটি প্রধান স্তম্ভ ছিল- ভোক্তা সুরক্ষা: খাদ্য ও ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক আইন প্রণয়ন। শ্রমিক অধিকার: শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ। কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ: বড় ব্যবসা ও ট্রাস্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ, যার ফলে তিনি ‘ট্রাস্ট বাস্টার’ নামে পরিচিত হন।

 

 

পররাষ্ট্রনীতিতে রুজভেল্ট ‘বিগ স্টিক ডিপ্লোমেসি’ নীতির প্রবক্তা ছিলেন-“ঝঢ়বধশ ংড়ভঃষু ধহফ পধৎৎু ধ নরম ংঃরপশ।” পানামা খাল নির্মাণে তার ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। রাশিয়া-জাপান যুদ্ধের মধ্যস্থতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ১৯০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন- তিনি ছিলেন এই পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রুজভেল্ট ছিলেন একজন অগ্রণী পরিবেশবাদী। তার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় উদ্যান, বন সংরক্ষণ এলাকা ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তার নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়। ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন একজন সাহসী সংস্কারক ও বিশ্বনেতা হিসেবে, যিনি দেশকে ভিতরে ও বাইরে- উভয় ক্ষেত্রেই শক্তিশালী অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেন।

 

 

কেলভিন কুলিজ (Calvin Coolidge, ৩০তম প্রেসিডেন্ট, ১৯২৩-১৯২৯)

ওয়ারেন হার্ডিংয়ের মৃত্যুর পর গ্রামে তাঁর বাড়িতেই কুলিজ শপথ নেন। পরে নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে আমেরিকার অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক প্রসার ঘটান। বিদেশি পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং লিগ অব নেশনসে অংশগ্রহণ অস্বীকার তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।

 

 

হ্যারি এস. ট্রুম্যান (Harry S. Truman, ৩৩তম প্রেসিডেন্ট, ১৯৪৫-১৯৫৩)

ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্টের মৃত্যুর পর ট্রুম্যান ক্ষমতা গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ করা, জাপান ও জার্মানির সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা, এবং পারমাণবিক বোমা ফেলা- সবই তার নেতৃত্বে ঘটে। পরে আবারও নির্বাচিতও হন।

 

 

জেরাল্ড ফোর্ড (Gerald Ford , ৩৮তম প্রেসিডেন্ট, ১৯৭৪-১৯৭৭)

জেরাল্ড রুডলফ ফোর্ড জুনিয়র ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যখন দেশটি গভীর রাজনৈতিক সংকট ও জনআস্থার অভাবে ভুগছিল। ১৯৭৪ সালের ৯ আগস্ট রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন এবং ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

জেরাল্ড ফোর্ডের জন্ম ১৯১৩ সালের ১৪ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহা শহরে। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং পরে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধশেষে রাজনীতিতে প্রবেশ করে তিনি রিপাবলিকান পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘদিন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু দলের নেতা হিসেবে তিনি দক্ষতা ও সততার পরিচয় দেন।
১৯৭৩ সালে স্পাইরো অ্যাগনিউ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করলে প্রেসিডেন্ট নিক্সন জেরাল্ড ফোর্ডকে নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত করেন। পরবর্তীতে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির চাপে নিক্সন পদত্যাগ করলে ফোর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রেসিডেন্ট হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি যিনি কখনো নির্বাচিত না হয়েও প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট-উভয় পদে দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

ফোর্ডের শাসনামলের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে ক্ষমা ঘোষণা করা। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ফোর্ড মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব মোকাবিলায় ‘ডযরঢ় ওহভষধঃরড়হ ঘড়ি (ডওঘ)’ কর্মসূচি চালু করেন। পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেন এবং হেলসিঙ্কি চুক্তিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে মানবাধিকার ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রগতি সাধন করেন।

 

 

১৯৭৬ সালের নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র‍্যাট প্রার্থী জিমি কার্টারের কাছে পরাজিত হন। জেরাল্ড ফোর্ড ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন একজন শান্ত, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে, যিনি সংকটকালে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তার শাসনামল দীর্ঘ না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই নয়জন প্রেসিডেন্ট যাঁদের মধ্যে কেউ সফল, কেউ বিতর্কিত- কিন্তু সবাই ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। ভোটে নির্বাচিত না হলেও তাঁরা দেখিয়েছেন যে, দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নেতৃত্বের ক্ষমতা কখনো শুধু ভোটের ওপর নির্ভর করে না। এই নয়জন প্রেসিডেন্টের গল্প শুধু আমেরিকার ইতিহাস নয়, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংবিধানকে সম্মান ও নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব শেখায়। ইতিহাসে তাদের অবদান আজও অনুপ্রেরণা দেয়।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জীবন রক্ষাকারী স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের কাহিনি

যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাত পরিবেশের শোষণ প্রতিরোধ

প্রথমবারের মতো উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চোখে দেখলো মানুষ

পাখির ভোজ উৎসব দেখে বিজ্ঞানীদের স্বস্তি

৫৪ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা

মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শান্তির আদর্শ বাস্তবায়নে প্রয়োজন নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সুশাসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন হোক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ

মার্চে নিউইয়র্ক অলবানি রুটে পূর্ণ ট্রেন সেবা ফিরছে

সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার জমকালো আয়োজনে দুই বছর পূর্তি উদযাপন

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) সভাপতি প্রিন্স আলম, সাধারণ সম্পাদক জনি

১০

দুর্নীতির দায়ে দুই দেশের নেতাকে লক্ষ্য করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

১১

নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে অপতথ্যের বিস্তার, অধিকাংশই ভারত থেকে

১২

মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাংলাদেশি কনসুলেট স্থাপনে মার্কিন অনুমোদনের অপেক্ষায়

১৩

এপস্টেইন নথিতে প্রভাবশালী যত ব্যক্তি

১৪

ইরান সংকট: মুক্তি বনাম মালিকানা বদলের অন্তহীন ফাঁদ

১৫

চাঁদে মানব শহর গড়তে ১০ বছরের টাইমলাইন দিলেন ইলন মাস্ক

১৬

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

১৭

নির্বাচন ছাড়াই যাঁরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন

১৮

কানাডার সব পণ্যে ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

১৯

অভিবাসীদের আতঙ্কের নাম এখন গ্রেগরি বোভিনো

২০