হ্যামট্রামিক শহরের রাজনীতিতে পরিচিত নাম মুহিত মাহমুদ। বর্তমান সিটি কাউন্সিল সদস্য হিসেবে তিনি শহরের নানা উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন। ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি প্রাইমারিতে জয়লাভ করেছেন এবং এখন মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আগামী ৪ নভেম্বর। বাংলা সংবাদ-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরলেন তাঁর পরিকল্পনা, ভিশন ও নাগরিকদের জন্য অঙ্গীকার। লিখেছেন বাংলা সংবাদ-এর মানবসম্পদ সম্পাদক কামাল হোসেন মুন্না।
মেয়র হলে আপনার প্রধান লক্ষ্য কী হবে?
আমার প্রথম লক্ষ্য হবে শহরের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করা। ট্যাক্স, ভাড়া, নিরাপত্তা – এসব নিয়ে মানুষ ভোগান্তিতে আছে। ট্যাক্স কমানো সম্ভব নয়, তবে সিটির আয় বাড়ানোর পথ তৈরি করব। উন্নত নাগরিকসেবা দিলে বিনিয়োগ আসবে, রাজস্ব বাড়বে, ট্যাক্সের বাড়তি চাপও কমবে। আমি চাই হ্যামট্রামিক হোক একটি ইনক্লুসিভ সিটি, যেখানে সবাই অংশ নেবে ও সম্মানিত বোধ করবে।
“মেয়র হওয়া মানে শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি অঙ্গীকার – শহরকে নিরাপদ, আধুনিক ও সবার জন্য সমান সুযোগপূর্ণ করে গড়ে তোলা।”
শহরের বাজেট ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে?
অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে হবে। উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ ও সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে, যাতে ব্যবসা সহজ হয়, কর্মসংস্থান বাড়ে এবং অর্থনীতি এগোয়।
বহুজাতিক এই শহরে ঐক্য কীভাবে বজায় রাখবেন?
হ্যামট্রামিকের সবচেয়ে বড় শক্তি বৈচিত্র্য। নিয়মিত ডায়ালগ ও বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের একত্র করব। মতের ভিন্নতা থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নে কী করবেন?
অভিযোগ আছে, কিছু অফিসার জনগণের সঙ্গে সঠিক আচরণ করেন না। আমি চাই তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং বাড়ানো হবে, যাতে আস্থা ও সহযোগিতা তৈরি হয়।
অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনা কী?
পানি-নিকাশী, রাস্তা ও পার্কিং সমস্যার সমাধান জরুরি। আমাদের পানি আসে ডেট্রয়েট থেকে, যা অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ায়। আমি চাই স্টেট বা অন্যান্য সংস্থা থেকে ফান্ড এনে পানি লাইন উন্নত করা হোক, যাতে নাগরিকদের ওপর চাপ কমে।
পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ভাবনা কী?
জনগণকে সচেতন করতে হবে, যেন ময়লা-আবর্জনা সঠিক স্থানে ফেলা হয়। রোড ক্লিনিং টিম বাড়ানো ও সময় বাড়ানো দরকার। পরিচ্ছন্ন শহর মানেই সুস্থ শহর।
তরুণ প্রজন্মের জন্য কী করবেন?
শিক্ষার মান উন্নত করতে স্কুল প্রশাসন ও বোর্ডের সঙ্গে কাজ করব। অন্য শহরের সফল উদাহরণ অনুসরণ করতে চাই। পাশাপাশি তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে চাই।
বয়স্ক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কোনো পরিকল্পনা আছে?
সিটি থেকে সরাসরি বড় সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ট্যাক্স রিভিউর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে কিছু ছাড় দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া রাজ্য সরকারের প্রোগ্রামের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে হবে।
মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কৌশল কী?
মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও জনগণের যৌথ উদ্যোগ দরকার। নিয়মিত টাউন হল মিটিং, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক সুযোগ বাড়াতে হবে। যারা মাদকে জড়িয়ে পড়েছে তাদের জন্য পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে চাই।
অভিবাসী কমিউনিটির জন্য প্রতিশ্রুতি কী?
অভিবাসীদের সেবা সবসময় দিয়েছি। মেয়র হিসেবে এ সেবার মান আরও উন্নত করব। সিটি ম্যানেজার ও কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিবাসীদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেব। হ্যামট্রামিক ছোট শহর হলেও বৈচিত্র্যের সমন্বয় ঘটাতে চাই।
কেন নাগরিকরা আপনাকে ভোট দেবে?
আমি জীবনের বড় অংশ হ্যামট্রামিকে কাটিয়েছি। এই শহরের সুখ-দুঃখ আমার জীবনের অংশ। আমি যেখানে কাজ করি সেখানের ইউনিয়নের কার্যক্রম থেকে হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিল – সব জায়গায় মানুষের সেবায় কাজ করেছি। বাংলাদেশি ডেমোক্রেটিক ককাসের সভাপতি, গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা আমার আছে।
আমার অভিজ্ঞতা শুধু রাজনীতি নয়, মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার মধ্য দিয়ে অর্জিত। মেয়র হিসেবে আমি সেই অভিজ্ঞতাকে বড় দায়িত্বে রূপ দিতে চাই। আমার কাছে মেয়র হওয়া মানে কেবল একটি পদ নয়, বরং একটি অঙ্গীকার – শহরকে নিরাপদ, আধুনিক ও সমান সুযোগপূর্ণ করে গড়ে তোলা। আমি বিশ্বাস করি নাগরিকরা আমাকে ভোট দিলে হ্যামট্রামিকের উন্নয়ন আরও এগোবে। ট্যাক্স, অবকাঠামো, শিক্ষা, কর্মসংস্থান – সবখানেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। নাগরিকদের কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দিয়ে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব তাদের স্বপ্নের শহর গড়তে।
মুহিত মাহমুদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি হ্যামট্রামিককে একটি আধুনিক, ঐক্যবদ্ধ ও সুযোগময় শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে, এখন সিদ্ধান্ত নাগরিকদের হাতে – তারা কি তাঁকে শহরের পরবর্তী মেয়র হিসেবে বেছে নেবেন?
মন্তব্য করুন