মিশিগানে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, জাতির সূর্যসন্তান জেনারেল এম এ জি ওসমানী দেশের প্রায় সব ক্ষেত্রেই অবহেলিত। রোববার বিকেলে মিশিগানের ওয়ারেন শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ওসমানী স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিষদের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক-এর সভাপতিত্বে সভার কার্যক্রম শুরু হয় পবিত্র কোরআন থেকে মাসুক আহমেদের তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ আইনজীবী, কমিউনিটি নেতা আব্দুর রহমান জেনারেল ওসমানীর বর্ণাঢল কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তার প্রারম্ভিক বক্তব্য পেশ করেন। আলোচনায় অংশ নেন কমিউনিটি নেতা গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী মহব্বত খাঁন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হেলাল উদ্দীন রানা, এবং অধ্যাপক জাফর ওবায়েদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী ও পরিষদের নেতা আব্দুর রহিম।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, “ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানীকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে যে ষড়যন্ত্রের শুরু হয়েছিল, তা আজও অব্যাহত আছে।” তারা অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রজন্ম জেনারেল ওসমানী সম্পর্কে খুব কমই জানে, কারণ পাঠ্যক্রমে তার জীবনী ও অবদান অনুপস্থিত। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্র এই দায় এড়াতে পারে না।” তারা আরও যোগ করেন, “জেনারেল ওসমানীসহ জাতির সব বীর সন্তানদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা না দিয়ে আমরা কখনোই নিজেদের একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে দাবি করতে পারি না।”
সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: পাঠ্যক্রমে জেনারেল ওসমানীর জীবনী ও কর্ম সংযোজন, তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন, ওসমানীর নামে প্রতিষ্ঠিত সকল স্থাপনার সংরক্ষণ। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হিসেবে চালু করা।
এই আলোচনা সভা জেনারেল ওসমানীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব
মন্তব্য করুন