মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ভোজনরসিক ছিলেন না। খুব কমই খেতেন; অন্যদেরও পেট পুরে করে খেতে নিরুৎসাহিত করতেন। সপ্তাহে দু-এক দিন রোজা রাখতেন। কখনো কখনো দিনের পর দিন তাঁর বাড়িতে চুলা জ্বলত না। তবে তিনি যখন খেতেন, পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যসম্মত খাবারই খেতেন। তিনি যেসব খাবার খেতে পছন্দ করতেন, তা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। নিচে মহানবী (সা.) এর পছন্দের কিছু খাবারের আলোচনা পেশ করা হলো।
মাখন
বুসরের দুই ছেলে থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন, ‘একবার আমাদের ঘরে রাসুল (সা.) আগমন করেন। আমরা তাঁর সম্মুখে মাখন ও খেজুর পরিবেশন করি। তিনি মাখন ও খেজুর পছন্দ করতেন।’ (তিরমিজি: ১৮৪৩)
মিষ্টি ও মধু
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) মিষ্টান্ন ও মধু পছন্দ করতেন।’ (বুখারি, ৫১১৫; মুসলিম: ২৬৯৫)। আরেক হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, মধু হলো উত্তম ওষুধ। (বুখারি: ৫৩৫৯)
খেজুর
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুল (সা.)-কে বার্লির এক টুকরো রুটির ওপর একটি খেজুর রাখতে দেখেছি। এরপর তিনি বলেছেন, ‘এটিই সালন-মসলা।’ (আবু দাউদ: ৩৮৩০)। অন্য হাদিসে আছে, প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে বাড়িতে খেজুর নেই, সে বাড়িতে কোনো খাবার নেই।’ এমনকি সন্তান প্রসবের পর প্রসূতিকেও প্রিয় নবী (স.) খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
কিশমিশ
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.)-এর জন্য কিশমিশ ভিজিয়ে রাখা হতো এবং তিনি সেগুলো পান করতেন।’ (মুসলিম)
পনির
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তাবুকের যুদ্ধে রাসুল (সা.)-এর কাছে কিছু পনির উপস্থাপন করা হয়। রাসুল (সা.) বিসমিল্লাহ পড়ে একটি চাকু দিয়ে সেগুলো কাটেন এবং কিছু আহার করেন। (আবু দাউদ: ৩৮১৯)
দুধ
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, মিরাজের রাতে বায়তুল মাকদিসে আমি দুই রাকাত নামাজ পড়ে বের হলে জিবরাইল (আ.) আমার সম্মুখে শরাব ও দুধের আলাদা দুটি পাত্র রাখেন। আমি দুধের পাত্রটি নির্বাচন করি। জিবরাইল (আ.) বললেন, ‘আপনি প্রকৃত ও স্বভাবজাত জিনিস নির্বাচন করেছেন।’ (বুখারি: ৩১৬৪, তিরমিজি: ২১৩)
ঘি মাখা রুটি
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) একদিন বলেন, ‘যদি আমাদের কাছে বাদামি গমে তৈরি ও ঘিয়ে সিক্ত সাদা রুটি থাকত, তাহলে সেগুলো আহার করতাম।’ আনসারি এক সাহাবি এই কথা শুনে এ ধরনের রুটি নিয়ে আসেন…। (ইবনে মাজাহ: ৩৩৪০)
জয়তুন
রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা জয়তুন খাও এবং জয়তুনের তেল গায়ে মাখো। কেননা এটি একটি পবিত্র বৃক্ষ থেকে তৈরি।’ (ইবনে মাজাহ: ১০০৩, তিরমিজি: ১৮৫১)
লাউ
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার একজন দরজি রাসুল (সা.)-কে খাওয়ার দাওয়াত করেন। আমিও মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সেই দাওয়াতে অংশ নিই। রাসুল (সা.)-এর সামনে বার্লির রুটি এবং গোশতের টুকরা ও কদু (লাউ) মেশানো ঝোল পরিবেশন করা হয়। আমি দেখেছি, রাসুল (সা.) প্লেট থেকে খুঁজে খুঁজে কদু নিয়ে খাচ্ছেন। আর আমিও সেদিন থেকে কদুর প্রতি আসক্ত হয়ে উঠি। (মুসলিম: ২০৬১; বুখারি: ৫০৬৪)
তরমুজ
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) তরমুজের সঙ্গে ‘রাতাব’ (পাকা-তাজা) খেজুর খেতেন। (বুখারি: ৫১৩৪, তিরমিজি: ১৮৪৪)
শসা
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুল (সা.)-কে শসার সঙ্গে ‘রাতাব’ খেতে দেখেছি। (মুসলিম: ৩৮০৬)
খাসির পায়া
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা ছোট খাসির পায়া রান্না করতাম। রাসুল (সা.) কোরবানির ১৫ দিন পরও সেগুলো খেতেন।’ (বুখারি: ৫১২২)
সামুদ্রিক মাছ
মহানবী (সা.) সামুদ্রিক মাছ পছন্দ করতেন। এ বিষয়ে আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.)-এর একটি দীর্ঘ হাদিস রয়েছে। হাদিসের শেষাংশে মাছ খাওয়ার বৈধতা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘খাও। এটি তোমাদের জন্য রিজিক, আল্লাহ পাঠিয়েছেন। আর তোমাদের কাছে কিছু অবশিষ্ট থাকলে আমাদেরও খাওয়াও। মাছটির কিছু অংশ নবী (সা.)-কে এনে দেওয়া হলো। তিনি তা খেলেন।’ (বুখারি: ৪৩৬২)
মন্তব্য করুন