
আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দিন দিন বাঙালির বসবাস বাড়ছে। তারই প্রেক্ষিতে মিশিগান রাজ্যের বিভিন্ন শহরে রয়েছে বাঙালির আনাগোনা। মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস বৃদ্ধির সাথে সাথে মসজিদ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে ওঠে আসে। মিশিগান রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ট্রয় শহরে বহু যুগ ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করলেও মসজিদ প্রতিষ্ঠায় তেমন উদ্যোগ কেউ নেননি।
অবশেষে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির নেতা প্রকৌশলী ড. মো. নুরুল আমিন, মাহমুদ আক্তার সাইদ, শিকান্দার কাত্রি ও সাব্বির কাত্রিসহ কয়েকজন উদ্যোগী হন মসজিদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে। কিন্তু সেখানে আসে আইনি নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা। সবকিছু ডিঙিয়ে অবশেষে ট্রয় নগরবাসী প্রথম মসজিদ পেলেন।
মুসলিম লোকজন নামাজ আদায় করতে পারছেন ট্রয় মসজিদে। নানা কারণে এই মসজিদটি এখন অনেকের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কেননা ৫ বছর আইনি লড়াই শেষে মুসল্লিরা এখন নামাজ আদায় করতে পারছেন। ট্রয় নগরে গির্জা, সিনাগগসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের উপাসনালয় থাকলেও মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে কয়েক দফায় আবেদন করা হলেও নানা অজুহাতে তারা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ায় ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে নগর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মিশিগান পূর্ব জোনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলাটি করা হয়। মামলাটি করেছে ফেডারেল সরকারের বিচার বিভাগ। এতে ট্রয় নগরের বিরুদ্ধে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিকে মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দিয়ে তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ট্রয় নগরে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির নেতা প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনের নেতৃত্বে অ্যাডাম কমিউনিটি সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে একটি মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ট্রয় নগর কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। এই নগরে বিপুল সংখ্যক মুসলমানের বসবাস। অসংখ্য চার্চ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রায় আশিটির মতো উপাসনালয় থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো মসজিদ প্রতিষ্ঠার কোনো অনুমোদন নগর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তারা নানা টালবাহানা করে বারবার এই আবেদন ফিরিয়ে দিচ্ছে।
এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা নিয়ে মামলার খবর প্রচারিত হলে স্থানীয় প্রায় সব গণমাধ্যমে তা ফলাও করে প্রচার করে। সঙ্গে মুসলিম কমিউনিটি ট্রয় নগরে তাদের একটি উপাসনালয় প্রতিষ্ঠায় কীভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছে, কতটা সংগ্রাম তাদের করতে হয়েছে, সেসব বিষয় দেশটির গণমাধ্যমে উঠে আসে। সবার একটাই প্রশ্ন, অন্য সব ধর্মের উপাসনালয় থাকলে মুসলমানদের কেন থাকতে পারবে না? এটি ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ, যা আইনের পরিপন্থী।
ট্রয় নগরের রচেস্টার সড়কের ওপর সাকুরা এশিয়ান রেস্টুরেন্টের লাগোয়া একটি ভবনে অ্যাডাম কমিউনিটি সেন্টার। এই শহরের প্রথম একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয় এবং ট্রয় নগর কর্তৃপক্ষ জোনিং আইন অমান্য করার অজুহাত দেখিয়ে তাদের সেই আবেদন ফিরিয়ে দেয়।

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসট্রিক্ট কোর্টের ফেডারেল জাজ ন্যান্সি এডমন্ড সিদ্ধান্তে এক যুগের বেশি সময় অপেক্ষা ও চার বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে। নগরীর প্রথম মসজিদ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ট্রয় মসজিদ। ২০০৭ সালে প্রথম মসজিদের জন্য জমি কিনলেও সিটি থেকে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি মেলেনি।
তারপর থেকে দীর্ঘদিনের লড়াই চলছে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য। এ মামলার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্ট ট্রয় নগরীর বিরুদ্ধে ল’সুট করে জানায় নগরীর জোনিং আইনে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়া ফেডারেল (কেন্দ্রীয় সরকার) আইনের পরিপন্থী। ট্রয় সিটির প্রথম মসজিদে নামাজ আদায়েও অনেকের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য যায়। ওয়াটলস রোডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দক্ষিণে রচেস্টার রোডে অবস্থিত ভবনটিতে নির্মিত হয়েছে।
বিভিন্ন অজুহাতে মসজিদ বন্ধের চেষ্টা করলেও অবশেষে ট্রয় মেয়র ইথান বেকার এবং শহরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অ্যাডাম কমিউনিটি সেন্টারের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মসজিদটি উদ্বোধন করেন।
মন্তব্য করুন