
জেনেসিসহোপএর নির্বাহী পরিচালক জিনিন হ্যাচার বলেন, কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট (ঈখঞ) হলো এমন এক ধরনের কমিউনিটি মালিকানা মডেল যেখানে কমিউনিটি স্থায়ীভাবে জমি তত্ত্বাবধান করে বাসিন্দাদের সামষ্টিক মঙ্গলের জন্য জেনেসিসহোপ একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা আইল্যান্ডভিউ, ডেট্রয়েটের দ্য ভিলেজেস এবং আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় কমিউনিটি স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং উন্মুক্ত সবুজ স্থানের মাধ্যমে সমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে।ডেট্রয়েটবাসীর জন্য আরও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা তৈরি করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি কমন গ্রাউন্ড কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট গড়ে তোলার কাজ করছে।
হ্যাচারের মাথায় এই ধারণা আসে কয়েক বছর আগে নিউইয়র্ক সিটিতে সফরের পর, যখন তিনি জেন্ট্রিফিকেশন ও বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় ঈখঞ নিয়ে গবেষণা করেন। এরপর তিনি ডেট্রয়েটের পাড়াগুলোতে খালি জমি ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি ডেট্রয়েট ল্যান্ড ব্যাংক থেকে ১০টি লট অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করছে এবং সেই লটে কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট মডেলে একক-পরিবারের বাড়ি নির্মাণের কথা বিবেচনা করছে। হ্যাচার বলেন, “মূল বিষয় হলো-যা কিছুই এই জমিতে গড়ে উঠবে বা ল্যান্ড ট্রাস্টের মালিকানাধীন হবে, তা সাধারণত স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী থাকবে, আর এটি নিশ্চিত করতে সীমিত গ্রাউন্ড লিজ ব্যবহৃত হবে, যা বলে দেবে কিভাবে ইকুইটি ভাগ হবে।” ল্যান্ড ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য হলো সব ধরনের আয়ের পরিবারের জন্য মানসম্পন্ন বাড়ি বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
কমিউনিটির হাতে, কমিউনিটির জন্য নির্মিত তবে কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট সফল হতে হলে কমিউনিটি থাকতে হবে, বলেন হ্যাচার। জেনেসিসহোপ সাত সদস্যের একটি উপদেষ্টা বোর্ড তৈরি করেছে, যাদের বলা হয় “দ্য ফেলোস”-যারা কমিউনিটি আউটরিচ ও সম্পৃক্ততা, এবং কমন গ্রাউন্ড ঈখঞ-এর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকবেন। জেনেসিসহোপ-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মাকাইলা লুকাস বলেন, “আমরা সেই ফেলোদেরকে উপদেষ্টা বোর্ডে রূপান্তর করেছি, যাতে তারা শাসন-নথি, বাই-লজ, গ্রাউন্ড লিজ, হোমবায়ার নির্বাচন মানদণ্ডসহ এমন সব নথি তৈরি করতে পারে যা একটি কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে।” উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্যরা বর্তমানে বার্লিংটন অ্যাসোসিয়েটস-এর জেফ ওয়াশবার্নের কাছ থেকে ট্রাস্ট স্থাপনের নিয়ম শিখছেন-যিনি ডেট্রয়েট জাস্টিস সেন্টারের মারফত পরামর্শ দিচ্ছেন।
বার্লিংটন একটি জাতীয় পরামর্শক সমবায়, যা কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দেয়। ফেলোদের একজন, ইস্ট ভিলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ডেলরেস অর্র, জেনেসিসহোপ-এর সাথে যুক্ত হন যখন তাঁর মেয়ে প্রতিষ্ঠানটির এক গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে অংশ নেয়। সেখানে তিনি কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট সম্পর্কিত তথ্য পান এবং এলাকায় সাশ্রয়ী আবাসন আনার ধারণাটি তাঁকে আগ্রহী করে তোলে। চার্লেভোইক্স ভিলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তোইয়া ওয়াটস ফেলো হন যখন তিনি আশপাশের অন্যান্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং জেনেসিসহোপ-এর কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট তৈরির পরিকল্পনা শোনেন।
ওয়াটস বলেন, “আমার মনে হচ্ছে আমি যেন আবার স্কুলে ফিরে গেছি।” জমি কিভাবে উন্নয়ন হবে, প্রকল্প কিভাবে অর্থায়ন পাবে, ঘরগুলি কিভাবে নির্মিত হবে-এসব জটিল ধাপ তারা শিখছেন।
অর্র জানান, এটি জমির ওপর শহরের আইন অধ্যয়ন করার বিষয়ও বটে। অর্র বলেন, “ব্যক্তি হিসেবে একজন গৃহমালিক বা কমিউনিটির সদস্য হিসেবে আপনি লট কিনতে পারেন। কিন্তু আমরা যে পথে যাচ্ছি, সেখানে জমি গুচ্ছ আকারে থাকে-এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আইনও ভিন্ন।” ওয়াটস ঈখঞ-এর ইতিহাস নিয়েও নিজস্ব গবেষণা করেছেন। ওয়াটস বলেন, “আমি জানতাম না যে এটি ১৯৬৯ সালে শুরু হয়েছিল, যখন কৃষ্ণাঙ্গ কৃষকেরা তাঁদের জমি রক্ষার জন্য আন্দোলন করছিলেন। কখনও ভাবিনি এটি ডেট্রয়েটে আসবে…জমি কখনো আমাদের মাথাতেই আসেনি। আমরা শুধু ভাবতাম-বাড়ির মালিক কে। জমির কথা কখনো ভাবিইনি। কিন্তু আমাদের কাছে এত জমি আছে-এখন আমরা এসব দিয়ে কী করব?”
গৃহমালিকানা ও কমিউনিটি সম্পদ রক্ষা ঈখঞ-এর গুরুত্ব হলো এটি মানুষকে দেখায় যে তারা এমন এলাকাতেও বাড়ির মালিক হতে পারে, যা আগে তাদের নাগালের বাইরে ছিল, অর্র বলেন। এই মডেল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন কমিউনিটি গড়ে তুলতে সাহায্য করে, যেখানে মানুষকে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে যেতে হবে না।
কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট হলো আবাসনের সাশ্রয়ী মূল্য টিকিয়ে রাখার গণতান্ত্রিক উপায়। এখানে জমি স্থায়ীভাবে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় থাকে এবং যারা বাড়ি কেনেন তারা জমির জন্য সামান্য লিজ প্রদান করেন। (বাড়ির মূল্য কম হয় কারণ ক্রেতা শুধু ঘর কেনেন, জমি নয়।) এই মডেল সাশ্রয়ী আবাসনের মজুত ধরে রাখতে সহায়তা করে, কারণ বাড়ির মালিকরা নিয়ন্ত্রিত মূল্যে বাড়ি বিক্রি করতে সম্মত হন, যাতে তা স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী থাকে। এসব ট্রাস্ট পরিচালনা করেন সাধারণ মানুষ- অর্র ও ওয়াটসের মতো বাসিন্দা-যাদের বোর্ড সাধারণত কমিউনিটির সদস্যদের নিয়ে গঠিত। অর্র বলেন, “তারা শুধু মালিক হতে পারে না, তারা কমিউনিটির ভেতর আরেকটি কমিউনিটি তৈরি করতে পারে।” কিছু ঈখঞ-তে কমিউনিটি গার্ডেন, পাবলিক বিল্ডিং, শেয়ারড ওয়ার্কস্পেস এবং সংরক্ষণ ল্যান্ডস্কেপও থাকে।
অর্র বলেন, “তারা (গৃহমালিকরা) বলতে পারেন সেখানে কী নির্মাণ হবে। তারা বলতে পারেন ঘরের নকশা কেমন হবে। তারা বলতে পারেন কে এটি নির্মাণ করবে।” যদিও প্রতিষ্ঠানটি এখনো উন্নয়নের জন্য খালি লটগুলো কিনতে সংগ্রাম করছে, কমিউনিটি সদস্যদের মধ্যে ঈখঞ মডেল নিয়ে আশাবাদ রয়েছে। অর্র বলেন, “আমি উচ্ছ্বসিত। যেখানে আমরা থাকি সেখানে নতুন নতুন অনেক কিছু হচ্ছে। যেসব ছোট সাধারণ বিষয় আমরা ভুলে গিয়েছিলাম, সেগুলো ফিরে আসছে। ডেট্রয়েট জুড়ে সেটাই হবে। আমরা ছাই থেকে উঠছি, আর এটিই আমাদের বাহন।’” রেজিলিয়েন্ট নেইবারহুডস হলো এক রিপোর্টিং ও সম্পৃক্ততা সিরিজ, যেখানে ডেট্রয়েটের বাসিন্দা ও কমিউনিটি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো একসাথে কিভাবে স্থানীয় পাড়া শক্তিশালী করছে তা তুলে ধরা হয়। এই গল্পটি মূলত মডেল ডি মিডিয়া দ্বারা তৈরি ও প্রকাশিত এবং ক্রেসগি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় নিউ মিশিগান মিডিয়া পত্রিকাগুলোতে পুনর্মুদ্রিত।
Resilient Neighborhoods is a reporting and engagement series that examines how Detroit residents and community development organizations are working together to strengthen local neighborhoods. This story was originally produced and published by Model D Media and is reprinted in New Michigan Media newspapers through a partnership supported by the Kresge Foundation.
মন্তব্য করুন