ডেট্রয়েটের ব্রাইটমুর অঞ্চলের এলিজা হাওয়েল পার্ক এখন কেবল একটি পার্ক নয়, এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক নতুন মিলনস্থল। একসময় অবহেলিত এই পার্কটি এখন সাইডওয়াক ডেট্রয়েটের সহযোগিতায় উন্নয়নের নতুন পথে হাঁটছে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে পার্কটি হয়ে উঠছে কমিউনিটির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
এক নতুন অভিজ্ঞতা: পার্কে নগরবাসীর ক্যাম্পিং
গত অক্টোবর মাসে ব্রাইটমুরের বাসিন্দা মার্লিন ফ্র্যাঙ্কলিন তাঁর ছেলে ও দুই নাতিকে নিয়ে এলিজা হাওয়েল পার্কে প্রথমবারের মতো ক্যাম্পিং করেন। পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নির্জনতার মাঝে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল অনন্য।
ফ্র্যাঙ্কলিন, যিনি ব্রিলিয়ান্ট ডেট্রয়েটের ডিজিটাল ম্যানেজার এবং একজন বয় স্কাউট নেতা, বলেন, “এটা সত্যিই অন্যরকম ছিল। পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ্য, তবে সকালে গরম কফির জন্য কাছের দোকানে যেতে পেরে ভালো লেগেছে!”
একসময় অবহেলিত, এখন উন্নয়নের পথে
কয়েক বছর আগেও পার্কটি অনেকের কাছে এক ভীতিকর স্থান ছিল। ২০১৪ সালে ডেট্রয়েটে আসা সোফি স্টকাম জানান, পার্কটি তখন ছিল অরক্ষিত, রাস্তা জলাবদ্ধ থাকত, এবং নিরাপত্তার অভাব ছিল।
২০১৫ সালে সাইডওয়াক ডেট্রয়েটের নির্বাহী পরিচালক রায়ান মাইয়ার্স-জনসন স্থানীয়দের সাথে কথোপকথন শুরু করেন এবং ২০১৭ সালে একটি কমিউনিটি লিডারশিপ টিম গঠন করা হয়, যারা পার্কের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করে।
সাইডওয়াক ডেট্রয়েটের প্রোগ্রাম পরিচালক অগাস্টা মরিসন বলেন, “প্রতিবেশীরা বলেছেন, ‘আগে মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো হোক, তারপর নান্দনিক উন্নয়ন করা যাবে।’”
উন্নয়নের ধারা: অবকাঠামো ও সাংস্কৃতিক সংযোজন
২০১৭ সাল থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হয়। শহরের বিনিয়োগে পার্কের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ হয়, রাস্তা মেরামত করা হয় এবং পার্কটিকে আরও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
২০২১ সালে বিশ্ববিখ্যাত শিল্পী প্যাট্রিক ডোগার্টি স্থানীয়দের সহযোগিতায় পার্কের প্রবেশদ্বারে চিত্তাকর্ষক ‘স্টিকওয়ার্ক’ ভাস্কর্য তৈরি করেন। এছাড়াও, ডেট্রয়েটের শিল্পী হালিমা আফি ক্যাসেলস সম্প্রতি পার্কের রুজ নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে সংগৃহীত উপকরণ দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করেন।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: আরও সম্পৃক্ততা, আরও সম্প্রসারণ
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সাইডওয়াক ডেট্রয়েট নতুন একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে, যেখানে ১২ জন স্থানীয় প্রতিনিধি, যার মধ্যে মার্লিন ফ্র্যাঙ্কলিনও রয়েছেন।
তরুণদের সম্পৃক্ত করতে পার্কে একটি ট্রেইল মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ডেট্রয়েট কমিউনিটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। এছাড়া, পার্কের একটি নির্দিষ্ট স্থান শীতকালীন স্লেজিংয়ের জন্য প্রস্তুত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পার্কের পরিকল্পনাবিদ নিকি মার্কট বলেন, “আমার স্বপ্ন এমন এক পার্কের, যেখানে পরিবারগুলো নিরাপদে সময় কাটাতে পারবে এবং প্রকৃতির সাথে সংযুক্ত থাকবে। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, এবং কাজ চালিয়ে যাব।”
উপসংহার
এলিজা হাওয়েল পার্ক এখন আর শুধুমাত্র একটি পার্ক নয়, এটি স্থানীয়দের জন্য এক সামাজিক মিলনস্থল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রতিবেশীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাইডওয়াক ডেট্রয়েটের উদ্যোগ ও শহরের বিনিয়োগের ফলে এই পার্ক একটি নতুন রূপ পাচ্ছে।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কিভাবে এই উদ্যম ও উন্নয়নের ধারা ভবিষ্যতে পার্কটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।

মন্তব্য করুন