অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-চিত্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান, নিউইয়র্ক, বাফেলো,ক্যালোফর্ণিয়া,জর্জিয়া সহ ৫০টি অঙ্গরাজ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হলো আজ শুক্রবার (২০মার্চ-২০২৬ইং)। তীব্র হিমেল হাওয়া,তুষারপাত ও সহ নানান প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখ লাখ বাংলাদেশী সহ ভিনদেশীয় মুসলমানরা পবিত্র মাহে-রমজানের ২৯/৩০ রোজা সম্পন্নের পর মহান আল্লাহ’র দেয়া শ্রেষ্ঠ আনন্দ উপহার ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন প্রবাসী বাংলাদেশী সহ ভিনদেশীয়রা।
নিউইয়র্কের পর মিশিগানে-ই সর্বোচ্চ বাংলাদেশী বসবাস করায় যুক্তরাষ্ট্রের মাটি যেন মুসলিম উম্মাহ’র পদচারণা, আনন্দ-উল্লাস ও ধর্মীয় এহেন উৎসবে এক খন্ড বাংলাদেশের রূপ ধারণ করে। উইন্টার সিজন এখনো শেষ না হওয়ায় খোলা আকাশের নীচে ঈদ জামাত অধিকাংশ রাজ্যে অনেকাংশেই করা সম্ভব হয়নি। তবে বিভিন্ন রাজ্যের মসজিদ গুলোতে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। লক্ষ্যণীয় বিষয় ছিল, বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় কিছু কিছু সিটি এলাকায় সড়কেও ঈদ জামাত আদায় করতে হয় মুসল্লিদেরকে।
মিশিগান ও নিউইয়র্কে মসজিদের সংখ্যা বহু থাকায় বাংলাদেশী সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভিনদেশীয় অন্যান্য মুসল্লীরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ জামাত আদায় করতে পেরেছেন। এসব মসজিদ গুলোতে শত শত বাংলাদেশীরা ঈদ জামাতে অংশ নিলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সূচনা ঘটে। নারীদের জন্যও ছিল একাধিক মসজিদ বা তৎসংলগ্ন প্রাঙ্গনে আলাদা ঈদ জামাত আদায়ের ব্যবস্থা। ঈদ জামাতে বিশ্ব-মুসলীম উম্মাহ’র শান্তি কামনা, পবিত্র রমজান ও রোজা নসীব করার পাশাপাশি স্বদেশের জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্র সহ বাংলাদেশের মাটিতে চির শায়িত মুদ্দাগণের জন্য দোয়া করা হয়। মানুষের সার্বিক কল্যান ও বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহান আল্লাহ’র সাহায্য কামনা করা হয়। ঈদ জামাত শেষে প্রবাসী বাংলাদেশী সহ মুসল্লীরা একে অপরের সাথে আলিঙ্গনের মাধ্যমে কুশল, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আত্মীয় স্বজন,বন্ধু বান্ধবের বাসা সহ বিভিন্ন দর্শণীয় স্থান গুলোতে বেড়াতে যান। অনেকেই তখন ছবি তোলা,ভিডিও ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের স্ব স্ব আইডিতে পোষ্ট করেন।
এদিকে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরের রোজা শুরু নিয়ে চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে ভিন্ন মত ও সিদ্ধান্তের কারনে অনেকেই ৩০ আবার অনেকেই ২৯ রোজা অতিবাহিত করার পর আবার একই দিন অর্থাৎ আজ শুক্রবার সম্মিলিতভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে একই দিন ঈদ উদযাপন করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে কিছুটা স্বস্থির নিশ্বাস ফেললেও আগামীতে যেন মুসলমানরা একই দিন থেকে মাহে রমজানের রোজা শুরু করা ও ঈদ পালন করতে পারেন,এ জন্য সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তদাতাদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
নয়তো কোন বিভ্রান্তির মাঝে রোজা বা ঈদ পালন করতে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশী সহ ভিনদেশীয়রা মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ঘেষা পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র কানাডার উইন্ডসর শহর সহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশীরা ঈদ জামাতে নামাজ আদায় সহ আনন্দ চিত্তে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন।
মন্তব্য করুন