বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফররত বিলেতের বাংলা মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সাপ্তাহিক সত্যবাণীর সম্পাদক এবং সাবেক দৈনিক সমকাল ও বাংলানিউজ২৪-এর লন্ডন প্রতিনিধি সৈয়দ আনাস পাশার সাথে এক আবেগঘন মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে মিশিগানে। প্রবাস জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, ফেলে আসা শিকড়ের স্মৃতি আর আন্তরিক আলাপচারিতায় ভরে ওঠে সন্ধ্যাটি।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরের সন্তানদের উদ্যোগে আয়োজিত এই আড্ডা অনুষ্ঠিত হয় ডেট্রয়েটের হ্যামট্রামিকের রাধুনী রেস্টুরেন্টে। এতে মিশিগান প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় রাজনীতিক এবং মিশিগান বাংলা প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ যোগ দেন।
আড্ডায় মিশিগানের গণ্যমান্য অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মো: আরিফ মিয়া, নুরুল আমিন মানিক, হেলাল উদ্দীন রানা, ইশতিয়াক রুপু, ইকবাল ফেরদৌস, আলফু কামালী, বাবুল আহমেদ বাচ্চু, আবুল কালাম আজাদ, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মতিন ও এডভোকেট দীপক চৌধুরী। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ হাবিল, সৈয়দ শিব্বির আহমেদ, সৈয়দ ইয়াহিয়া, সৈয়দ শফিক, সৈয়দ কাওসার, আব্দুন নুর, সৈয়দ জুনু, সৈয়দ রাজন, সৈয়দ শামীম ও মাওলানা সাহিদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সৈয়দ আনাস পাশাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। প্রথমেই আড্ডার উদ্যোক্তারা পুষ্পস্তবক হাতে তাঁকে বরণ করেন। পাশাপাশি বাংলা প্রেসক্লাব অব মিশিগান ইউএসএ, মিশিগান কানাইঘাট সমিতি ও স্থানীয় সংগঠনের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির আত্মিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ। লন্ডন ও মিশিগানের বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান তুলে ধরে বক্তারা বলেন, প্রবাসের মাটিতে থেকেও শিকড়ের টান কখনো ম্লান হয় না। বিশেষত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথ কাঁপানো সংগ্রামের অভিজ্ঞতা উঠে আসে আলাপচারিতায়। সৈয়দ আনাস পাশা, হেলাল উদ্দীন রানা, আরিফ মিয়া, নুরুল আমিন মানিক ও ইশতিয়াক রুপু সেই সময়ের স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে সহযোদ্ধাদের সাহস ও ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন।

সৈয়দপুর কমিউনিটি অব মিশিগান, ইউ এস এ’র সভাপতি সৈয়দ শিব্বির আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইয়াহিয়া বলেন, এই ধরনের আড্ডা প্রবাসীদের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের ইতিহাসের সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করে। দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ হাবিল ও অন্যান্য সদস্যরাও একই মত প্রকাশ করেন।
আড্ডাটি শুধু এক সন্ধ্যার মিলনমেলা নয়, বরং প্রবাস জীবনে শিকড়ের টান ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রবাসীদের জন্য এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় অনুষ্ঠানে।
মন্তব্য করুন