মিশিগানের টমেটো খামারগুলো দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকোর আমদানিকৃত টমেটোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। কানাডা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত হলেও দক্ষিণ-পশ্চিম মিশিগানের কৃষকদের প্রধান দুশ্চিন্তার নাম মেক্সিকো। প্রায় ২৫ বছর ধরে মেক্সিকো এই অঞ্চলের টমেটো শিল্পে গভীর প্রভাব বিস্তার করছে।
স্থানীয় কৃষকদের জন্য দুই দিক থেকে চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছে শ্রমিক সংকট ও অস্থায়ী কাজের ভিসার (H-2A) ক্রমবর্ধমান খরচ, অন্যদিকে মেক্সিকো থেকে আসা সস্তা টমেটোর প্রবল প্রতিযোগিতা। এর ফলে বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
সোডাস টাউনশিপের ৬০০ একর লেইটজ ফার্মের সহ-মালিক ফ্রেড লিটজ জুনিয়র এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সবসময় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি। মেক্সিকান চাষিরা কয়েক দশক ধরে দাম কমিয়ে মার্কিন বাজার দখল করছে। কিছু একটা পরিবর্তন করতেই হবে।”
তবে সম্প্রতি কৃষকদের জন্য এক ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে। গত মাসে মেক্সিকো থেকে আমদানি করা টমেটোর উপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত ১৭ শতাংশ শুল্ক নতুন করে কার্যকর হওয়ায় দেশীয় কৃষকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সুযোগ দেখছেন। বিশেষ করে রোমা, রাউন্ড ও চেরি টমেটোর বাজারে এই পরিবর্তন নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
তবুও আশঙ্কা রয়েই গেছে। কারণ মেক্সিকো রপ্তানিকৃত টমেটোর ন্যূনতম মূল্য ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে আগামী মাসগুলোতে মার্কিন ভোক্তাদের বেশি দামে টমেটো কিনতে হতে পারে।
৬৮ বছর বয়সী ফ্রেড লিটজ বলেন, “আমি সবসময় আশাবাদী থাকি যে লাভ করব, কিন্তু সেটা সবসময় হয় না। ১৯৯৬ সাল থেকে দেশীয় চাষিদের সুরক্ষায় যথেষ্ট কিছু করা হয়নি। এখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
মিশিগানের কৃষক সমাজ মনে করছে, এ ধরনের শুল্ক সহায়তা শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি দেশীয় কৃষিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এক অপরিহার্য পদক্ষেপ। স্থানীয় চাষিদের সংগ্রাম ও সাফল্য ভবিষ্যতে এই নীতির কার্যকারিতা দিয়ে পরিমাপ হবে বলে মত দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
source: http://detroitnews.com
মন্তব্য করুন