প্রবাসের এই ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়াঁনো সজল আলীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করলো ফেঞ্চুগঞ্জ সোসাইটি অব মিশিগান ইউ এস এ।
গত ১৯ জুলাই ওয়ারেন শহরের হলমিচ পার্কে ফেঞ্চুগঞ্জ সোসাইটির বার্ষিক বনভোজনে সাত শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতিতে উৎসব মুখর পরিবেশে কমিউনিটি লিডার সজল আলীর হাতে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ফেঞ্চুগঞ্জ সোসাইটির আহবায়ক শাজাহান কিবরিয়া লিটনের সভাপতিত্বে এবং বাবুল মিয়া সোহেলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভার্জিনিয়া থেকে আগত কমিউনিটি নেতা খায়রুল খান।সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, মিশিগানে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা হেলাল খান, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব গোলাম মোস্তফা খান, সেলিম চৌধুরী, ছালেহ আহমদ চৌধুরী, তয়ফুর রহমান,মুহিবুর রহমান বকুল , মো সেলিম, হাজী ফারুক আহমদ, ইছাক আলী খেলা মিয়া, সেলিম আহমদ, নজরুল খান, মো আব্দুস সালাম , মাহবুবুর রহমান লিপন, মো মহসিন মিয়া,দুলাল আহমদ, জালাল মিয়া, লিমন চৌধুরী, ফজলুল করিম, আব্দুল কাইয়ুম, সাংবাদিক জুয়েল খান, চপু চৌধুরী।
মুঠোফোনে কল দিলেই বিপদগ্রস্ত মানুষের ঠিকানায় হাসিমুখে ছুটে যান সজল আলী। যিনি মিশিগানে আলী ভাই হিসাবে পরিচিত। বিপদগ্রস্ত মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে সাধ্যমত সহযোগীতা করে আবার অন্য বিপদগ্রস্তের আহবানে সাড়া দিয়ে ছুটে যাচ্ছেন অন্যখানে । এভাবে কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে আলী ভাইয়ের মানবতার গল্প। মিশিগানে আগত বিশেষ করে নতুন অভিবাসী বাংলাদেশী পরিবারের পাশাপাশি ব্যয়বহুল তার জন্য নিউইয়র্ক, নিউজার্সীসহ বিভিন্ন স্টেট থেকে মিশিগানে মুভ হওয়া প্রাথমিক বিপদগ্রস্ত মানুষদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের চেম্বার, গুরুতর অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া। কাজের জন্য বিভিন্ন জব এজেন্সির সাথে মিট করে দেয়া। সাশ্রয়ে রেন্টে বাসাবাড়ি খোঁজে দেয়া, যাদের গাড়ি নেই তাদের ফ্রি রাইড দিয়ে সহযোগীতা করা। অভাবগ্রস্ত পরিবারের কেউ মারা গেলে দাফনকাজের আনুষ্ঠানিকতাসহ সাধ্যমত প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে থাকেন সজল আলী। এ ছাড়া মিশিগানে একাধিক মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার পিছনে রয়েছে তাঁর বিশেষ অবদান । সজল আলীর এই মানবিক কর্মকান্ড কমিউনিটির মানুষের কাছে প্রশংসা কুড়াচ্ছে ।
বাংলাদেশী কমিউনিটিতে “আলীভাই” হিসাবে খ্যাত মানবতাবাদী সজল আলীর পুরো নাম শেখ সজল আলীর বাড়ি সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার রাজনপুর গ্রামে। ১৯৮৮ সালে অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসেন তিনি। নিউইয়র্ক একযুগ বসবাস করার পর ২০০০ সালে নিউইয়র্ক থেকে মিশিগানে মুভ করেন সজল আলী।
এ বিষয়ে সজল আলী বলেন, কোন মানুষই সারা জীবন বিপদগ্রস্ত থাকেনা । যে কোন নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। মানব জীবনে যদি মানুষের বিপদেআপদে পাশে না থাকলাম সে জীবন মুল্যহীন। মানুষের জন্য কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। সবই আল্লাহ ইচ্ছা নবী ও রসুলের দেখানো পথে আমাদের চললে ইহকাল ও পরকালে আমাদের কল্যাণ সম্ভব । আল্লাহ পাক সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার তওফিক দান করুন। ফেঞ্চুগঞ্জ সোসাইটির আহবায়ক শাজাহান কিবরিয়া লিটন বলেন, সজল আলীর মানবতার গল্প আমাদের কমিউনিটির মানুষের মুখেমুখে ছড়িয়ে পড়েছে। যে সমাজে গুণীজনের মূল্যায়ন নেই সেই সমাজে গুণীজনের সৃষ্টি হয়না। সজল আলীর হাতে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে ফেঞ্চুগঞ্জ সোসাইটি সম্মানিত বোধ করছে। আমরা চাই সমাজে আরো শত শত সজল আলীর জন্ম হউক।
মন্তব্য করুন