মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামিক সিটিতে বাংলা সাহিত্য পরিষদ ইউএসএ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর কাব্যজলসা ও সাহিত্য আড্ডা। সম্প্রতি হ্যামট্রামিকের হলব্রুকে অস্থায়ী কার্যালয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন প্রবাসী সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে আয়োজিত এই সাহিত্য আড্ডার উদ্দেশ্য প্রবাস ও দেশের সাহিত্যাঙ্গনকে একসূত্রে বাঁধা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পরিষদের মুখপাত্র কবি হারান কান্তি সেন। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি কবি মুজিবুর রহমান সাহিন। শুরুতেই পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দেব প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং উপস্থিত কবি, লেখক ও গীতিকারদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কবি মোশাররফ আলী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক ড. মোতাকাব্বির মাসুদ। কাব্যপাঠ ও স্বরচিত লেখা পাঠের মাধ্যমে আসরটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণ করেন পরিষদের উপদেষ্টা কবি ও গীতিকার ইশতিয়াক রূপু, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব মো. আবদুর রউফ, কবি সুবিমল সেনাপতি, কবি নারায়ণ গুপ্ত, সঞ্জয় দেব এবং সাংবাদিক মাহমুদুল হক লিটু প্রমুখ।
বক্তারা প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে এর সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা আমাদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্বকে জাগ্রত রাখে। সভাপতি কবি মুজিবুর রহমান সাহিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সকলের আন্তরিক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঘোষণা করেন যে, সাহিত্য পরিষদের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে শিগগিরই একটি ওয়েবসাইট চালু করা হবে। সেখানে সদস্যদের জন্য পরিচিতি ফরম পূরণের সুযোগ থাকবে।
অনুষ্ঠানে সদ্য প্রয়াত সাহিত্যিক মরহুম সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম-এর স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শেষে কবি সঞ্জয় দেব ও তাঁর সহধর্মিণী শমিল দেব উপস্থিত সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে মিষ্টিমুখে আপ্যায়িত করেন। এতে বিভিন্ন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
এই আয়োজন প্রবাসী বাংলা সাহিত্যচর্চায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে এবং আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে এই সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
মন্তব্য করুন