মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগ গতকাল শুক্রবার রাজ্যের লিভিংস্টন কাউন্টিতে একজন বাসিন্দার দেহে এ বছরের প্রথম ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্তের কথা নিশ্চিত করেছে। রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। এছাড়া, ২০২৫ সালে বে, কালামাজু, কেন্ট, ম্যাকম্ব, মিডল্যান্ড, সাগিনাও, টাসকোলা এবং ওয়েন কাউন্টিতে ভাইরাস বহনকারী মশা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে মশার কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তাই এ সময়ে পোকামাকড়ের কামড় থেকে সুরক্ষার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের (MDHHS) প্রধান চিকিৎসা নির্বাহী ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান বলেন, “মশার কামড় গুরুতর অসুস্থতা ডেকে আনতে পারে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সময়ে বাইরে থাকলে পোকামাকড় প্রতিরোধক ব্যবহার ও লম্বা হাতার জামা পরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, পেশী দুর্বলতা ও তীব্র মাথাব্যথা। তবে এটি মেনিনজাইটিস বা এনসেফালাইটিসের মতো স্নায়বিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, সংক্রমিতদের প্রায় ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রেই কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ৫ আগস্ট পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি রাজ্যে ১৪০ জনের দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রাজ্য অ্যারিজোনা, যেখানে ৩৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
মশাবাহিত অন্যান্য রোগের মধ্যে রয়েছে ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস এবং জেমসটাউন ক্যানিয়ন ভাইরাস। এ কারণে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা অনুমোদিত পোকামাকড় প্রতিরোধক ব্যবহার করা, বাইরে থাকলে লম্বা হাতা ও প্যান্ট পরা, বাড়ির দরজা-জানালায় স্ক্রিন লাগানো এবং বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, যারা মনে করেন তারা বা তাদের পরিবারের কোনো সদস্য ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন, তাদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Source : http://detroitnews.com
মন্তব্য করুন