মিশিগানজুড়ে দাবানলের ধোঁয়া রাজ্যের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। দৃশ্যত বাতাস পরিষ্কার হয়ে গেলেও এর প্রভাব শরীরে থেকে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসা গবেষকদের মতে, দাবানলের ধোঁয়ার কণাগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে মানুষের চুলের গড় ব্যাসের অন্তত ৩০ গুণ ছোট। এসব কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে ফুসফুস, হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের জন্য একযোগে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের মহামারীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পারসপেক্টিভস জার্নালের সহযোগী সম্পাদক সারা আদর বলেন, কয়েক দশক ধরে চিকিৎসকরা জানেন যে বায়ুদূষণ অকাল মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, এটি শ্বাসযন্ত্র ও রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) জানিয়েছে, সূক্ষ্ম কণার সংস্পর্শে আসলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ও হাঁপানির আক্রমণসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গত দশকে আরও এক উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে, দূষণকারী পদার্থ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। অধ্যাপক আদর বলেন, “আমাদের মস্তিষ্ক অক্সিজেন সরবরাহ ও রক্ত প্রবাহের ওপর অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো কিছু যা রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তা শুধু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াবে না, বরং মস্তিষ্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
এ বছরের গ্রীষ্মে দাবানলের ধোঁয়ার কারণে মিশিগানে অন্তত ২৬ বছরের মধ্যে সর্বাধিক বায়ু মান সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা আরও তীব্র হচ্ছে, বিশেষ করে কানাডার মতো উত্তরাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের পরিবেশ ও স্থায়িত্ব স্কুলের ডিন জোনাথন ওভারপেক বলেন, “এটি একেবারেই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা এবং আমরা এর মূল্য দিচ্ছি। যতদিন জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে পৃথিবীকে আরও উষ্ণ ও শুষ্ক করে তুলব, ততদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকবে।”
এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুনভাবে সচেতনতা তৈরি করেছে। চিকিৎসক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বায়ু মান খারাপ থাকলে বাইরে কাজ বা ব্যায়াম সীমিত রাখা এবং ঘরে এয়ার ফিল্টার ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা উচিত।
সূত্র : http://detroitnews.com
মন্তব্য করুন