আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস রমজান। আর ইমানের পরে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো নামাজ। নফল নামাজের মতো খাস ইবাদতের জন্য দিন অপেক্ষা রাত উত্তম। আর যেহেতু রহমতের শ্রেষ্ঠ সময় হলো তাহাজ্জুদের সময়, সেহেতু এ সময়ের নফল নামাজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
প্রিয় নবীজি (সা.)ুএর উদ্দেশে আল্লাহুতাআলা বলেন, ‘এবং রাত্রির কিছু অংশ তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করো, এটি তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে মাকামে মাহমুদে অধিষ্ঠিত করবেন।’ (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ৭৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ফরজ নামাজসমূহের পর উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ।’ (মুসলিম, আলফিয়্যাহ: ৪০৫) রাসুলুল্লাহ (সা.) সারা বছর রাতেই তাহাজ্জুদ
নামাজ আদায় করতেন। তাই এটি সুন্নত, অতিরিক্ত হিসেবে নফল।
হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) ও উম্মে ছালামাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি আমল কখনো পরিত্যাগ করেননি—তাহাজ্জুদ নামাজ, প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ “আইয়ামে বিদ”ুএর রোজা পালন ও রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ।’ (বুখারি: ১৯৭৫)
রমজান মাসে ফরজ রোজা পালনের নিমিত্তে সাহ্রি খাওয়ার সুন্নত আদায়ের জন্য উঠতে হয় এবং সাহ্রির সময়ই হলো তাহাজ্জুদের সময়; সুতরাং রমজানে তাহাজ্জুদ আদায় করা খুবই সহজ। তাহাজ্জুদ ২ রাকাত করে ৮ রাকাত, ১২ রাকাত বা আরও কম বা বেশিও পড়া যায়। রমজানের নফলের সওয়াব ফরজের সমান, ফরজের সওয়াব ৭০ গুণ। তাই রমজানে তাহাজ্জুদের সহজ ও সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
রাসুলে করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহুতাআলা সেই স্বামীর প্রতি রহম করেন, যে নিজে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং তার স্ত্রীকে জাগায়। যদি সে উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটা দেয়। আল্লাহুতাআলা সেই স্ত্রীর প্রতি রহম করেছেন, যে নিজে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং তার স্বামীকে জাগায়। যদি সে উঠতে অস্বীকার করে, তবে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটা দেয়।’ (আবু দাউদ ও নাসায়ি, আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৪০৭)
মন্তব্য করুন