মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামিক সিটি নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে ডেট্রয়েট মেট্রোপলিটন এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। সরব প্রচারণা, পথসভা, দোরে দোরে গিয়ে জনসংযোগ-সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ যেন পরিণত হয়েছে এক বিশাল উৎসবে।
এ বছরের ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে প্রাইমারি নির্বাচন, আর ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত জেনারেল নির্বাচন। মেয়র ও তিনটি সিটি কাউন্সিলর পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী, যা প্রবাসী সমাজে নতুন করে রাজনৈতিক সচেতনতার উন্মেষ ঘটিয়েছে। শহরের নানা প্রান্তে প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট শোভা পাচ্ছে। রেস্টুরেন্ট, দোকান, মসজিদ এমনকি বাড়ির উঠোনে হচ্ছে ছোট ছোট মতবিনিময় সভা। ২৭ জুন হ্যামট্রামিক পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত ‘মিট দ্য ক্যান্ডিডেটস’ সভায় স্থানীয় ভোটাররা প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী মেয়র আমীর গালীব, যিনি এইবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।
এবার মেয়র পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মুহিত মাহমুদ, খন্দকার শওকত হোসেন, ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ (আইনিভাবে নাম পরিবর্তনকৃত), ইঞ্জিনিয়ার এডাম আলহারবি। প্রাথমিকভাবে প্রার্থী হলেও খলিল রেফাই পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে এডাম আলহারবিকে সমর্থন জানান।
সিটি কাউন্সিলর পদের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন মোট ১১ জন প্রার্থী। তারা হলেন- আবু মুসা (বর্তমান কাউন্সিলর), নাঈম চৌধুরী (প্রাক্তন কাউন্সিলর), রেজাউল করিম চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান, জোসেফ স্ট্রজালকা, রাস গর্ডন, ডায়ান এলিজাবেথ ফ্রাকান, মোতাহার আবদো ফাদেল, ইউসুফ সাঈদ, আব্দুলমালিক ইয়াহিয়া কাসিম, লুকমান মোহাম্মদ সালেহ।
৫ আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচনে মেয়র পদে ২ জন এবং কাউন্সিলর পদে ৬ জন নির্বাচিত হবেন, যারা ৪ নভেম্বরের মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। চূড়ান্ত নির্বাচনে একজন মেয়র ও তিনজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। হ্যামট্রামিক শহরের এই নির্বাচন যেন এনে দিয়েছে বাংলাদেশের চিরচেনা রাজনৈতিক আমেজ। দোকান, বাজার, ক্যাফে, অফিস, উপাসনালয়-সব জায়গায় শুধু আলোচনা নির্বাচন ঘিরে। ছোট ছোট পথসভা থেকে শুরু করে পরিবারকেন্দ্রিক আলোচনা-সবখানেই বয়ে যাচ্ছে একধরনের গণতান্ত্রিক প্রাণচাঞ্চল্য।
হ্যামট্রামিক সিটির এই নির্বাচন শুধু একটি শহরের প্রশাসনিক নির্বাচন নয়, এটি প্রবাসী বাঙালিদের রাজনৈতিক আত্মপ্রতিষ্ঠার এক মাইলফলক। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে বাঙালি কমিউনিটির লোকজনের মধ্যে নির্বাচনী উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ছে। চা-কফির আলোচনায় এখন প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচন।
মন্তব্য করুন