মিশিগানসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে পূর্বাঞ্চলীয় ম্যাসাসাউগা র্যাটলস্নেক এখন হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অচিরেই এ প্রজাতি বিপন্ন তালিকাভুক্ত হতে পারে। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এ সাপ মিশিগানে তুলনামূলক বেশি সংখ্যায় পাওয়া যায়, তবে সাম্প্রতিক গবেষণা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
মিশিগান ন্যাচারাল ফিচারস ইনভেন্টরির তথ্যমতে, এ সাপ সাধারণত ভীতু প্রকৃতির এবং মানুষের মুখোমুখি হলে গাছপালার আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। প্রাপ্তবয়স্ক ম্যাসাসাউগা গড়ে দুই থেকে তিন ফুট লম্বা হয়। তাদের পিঠে থাকে বিশেষ ধরনের স্যাডেল-আকৃতির দাগ, পাশে কালো দাগ এবং লেজের র্যাটলস, যা তাদের প্রধান পরিচয়চিহ্ন। এরা মূলত জলাভূমি এলাকায় বাস করে যেখানে জলস্তর উঁচু এবং রৌদ্রোজ্জ্বল জায়গা থাকে। ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন ভোল ও ইঁদুর এদের প্রধান খাদ্য, মাঝে মাঝে পাখি ও ব্যাঙও খেয়ে থাকে।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক সারা ফিটজপ্যাট্রিক সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে জানান, অন্তঃপ্রজননের উদ্বেগজনক প্রমাণ পাওয়া গেছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, এই প্রভাব এমনকি সুরক্ষিত জলাভূমি অঞ্চলের স্থিতিশীল জনসংখ্যার মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা মিশিগানের দুটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যেই অন্তঃপ্রজননের নেতিবাচক প্রভাব পেয়েছি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ছোট ও বিচ্ছিন্ন জনসংখ্যাগুলোতে সমস্যা আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
স্থানীয় পরিবেশবিদদের মতে, এ প্রজাতি শুধু মিশিগানের জীববৈচিত্র্যেরই অংশ নয়, বরং খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইঁদুর ও অন্যান্য ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সাপ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই এ প্রজাতির সংখ্যা হ্রাস পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ম্যাসাসাউগা র্যাটলস্নেকের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রাকৃতিক বাসস্থান সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় কমিউনিটি সদস্যরাও এ বিষয়ে সচেতন হতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, এ সাপকে ভয় না পেয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, কারণ প্রকৃতির জন্য এটি অপরিহার্য একটি অংশ।
Source: detroitnews.com
মন্তব্য করুন