বাংলা সংবাদ ডেস্ক
৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পাঁচটি বড় পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি

ট্রাম্প প্রশাসন এক বছরের মধ্যেই অভিবাসন নীতি বা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নিচে নতুন অভিবাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পরিবর্তন তুলে ধরা হলো—

 

যাচাই-বাছাই আরও কঠিন
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) এখন আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করছে। নাগরিকত্ব পরীক্ষাও কঠিন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভালো নৈতিক চরিত্র, সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং ইতিবাচক অবদানের প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে। জালিয়াতি ধরতে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

 

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আটকে যাচ্ছে আবেদন
ট্রাম্প প্রশাসন গত এক বছরে কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যেসব দেশের ওপর নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, সেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় ও অভিবাসন আবেদন কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এসব দেশের নাগরিকরাও এখন ভিসা নবায়ন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় থাকা প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে ধারণা।

 

ওয়ার্ক পারমিট তথা কাজের ভিসার মেয়াদ কমছে
বিদেশি কর্মীদের জন্য কাজের অনুমতির মেয়াদ কমিয়ে ৫ বছর থেকে ১৮ মাস করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এতে জালিয়াতি কমবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করা সহজ হবে।

 

সরকারি সহায়তা নিলে নেতিবাচক প্রভাব
নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিবাসী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা নিতে পারেন কি না, তা আবেদন মূল্যায়নে নেতিবাচক হিসেবে ধরা হবে। যদিও অবৈধ অভিবাসীরা সরাসরি এসব সুবিধা পান না, তবে অনেক বৈধ অভিবাসী বা মিশ্র পরিবারের সদস্যরা এর আওতায় পড়বেন।

 

মানবিক কর্মসূচি বন্ধ, লাখো অভিবাসীর ‘লিগ্যাল স্ট্যাটাস’ বাতিল
ট্রাম্প প্রশাসন ১১টি দেশের নাগরিকদের জন্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিল করেছে।

 

এতে যুক্তরাষ্ট্রে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার প্রায় ৭৬ হাজার মানুষসহ মোট প্রায় ১০ লাখ মানুষ তাদের ‘লিগ্যাল স্ট্যাটাস’ তথা আইনি সুবিধা হারিয়েছেন। হোয়াইট হাউস বলছে, এসব সিদ্ধান্ত মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমবাজারে বৈধ কর্মী নিয়োগের সুযোগ রাখা হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ও বৈধভাবে বসবাস করা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জীবন রক্ষাকারী স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের কাহিনি

যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাত পরিবেশের শোষণ প্রতিরোধ

প্রথমবারের মতো উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চোখে দেখলো মানুষ

পাখির ভোজ উৎসব দেখে বিজ্ঞানীদের স্বস্তি

৫৪ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা

মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শান্তির আদর্শ বাস্তবায়নে প্রয়োজন নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সুশাসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন হোক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ

মার্চে নিউইয়র্ক অলবানি রুটে পূর্ণ ট্রেন সেবা ফিরছে

সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার জমকালো আয়োজনে দুই বছর পূর্তি উদযাপন

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) সভাপতি প্রিন্স আলম, সাধারণ সম্পাদক জনি

১০

দুর্নীতির দায়ে দুই দেশের নেতাকে লক্ষ্য করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

১১

নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে অপতথ্যের বিস্তার, অধিকাংশই ভারত থেকে

১২

মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাংলাদেশি কনসুলেট স্থাপনে মার্কিন অনুমোদনের অপেক্ষায়

১৩

এপস্টেইন নথিতে প্রভাবশালী যত ব্যক্তি

১৪

ইরান সংকট: মুক্তি বনাম মালিকানা বদলের অন্তহীন ফাঁদ

১৫

চাঁদে মানব শহর গড়তে ১০ বছরের টাইমলাইন দিলেন ইলন মাস্ক

১৬

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

১৭

নির্বাচন ছাড়াই যাঁরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন

১৮

কানাডার সব পণ্যে ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

১৯

অভিবাসীদের আতঙ্কের নাম এখন গ্রেগরি বোভিনো

২০