ডেট্রয়েট শহরে প্রথমবারের মতো চালু হলো খাদ্য কম্পোস্টিং পাইলট প্রোগ্রাম, যা শহরের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছে কারহার্ট, যারা এক লাখ ডলার অনুদান প্রদান করেছে।
নগর কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক প্যাট্রিস ব্রাউন বলেন, “খাবারের বর্জ্যকে পুষ্টিকর সমৃদ্ধ মাটিতে রূপান্তর করে আমরা ল্যান্ডফিলের চাপ কমাচ্ছি এবং স্থানীয় খামার ও স্বাস্থ্যকর পাড়া সমর্থন করছি।” প্রাথমিক পর্যায়ে যারা অনলাইনে নিবন্ধন করবেন, তাদের মধ্যে প্রথম ২০০ জনকে বিনামূল্যে পাঁচ গ্যালন কম্পোস্টিং বালতি দেওয়া হবে। এই বালতিতে ফল ও সবজির বর্জ্য, ডিমের খোসা, কফি গ্রাউন্ড, ব্যবহৃত ন্যাপকিন এবং অন্যান্য অনুমোদিত উপকরণ রাখা যাবে।
সংগৃহীত বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হবে উডওয়ার্ড অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ডেট্রয়েট পিপলস ফুড কো-অপে। পরে তা স্থানীয় খামারে সরবরাহ করে মাটি সমৃদ্ধ করা হবে। শহরের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২২০ পাউন্ড খাদ্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে, যা বছরে প্রায় ৮০,০০০ পাউন্ড বর্জ্য হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।
ডোয়ার্স এজ এলএলসির সিইও রেনি ভি. ওয়ালেস জানান, “এই পাইলট প্রকল্প সম্প্রদায়কে সার তৈরির অনুশীলন ও গুরুত্ব শেখাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাও তৈরি করবে।”
খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শাকারা টাইলার সাবা, ডেট্রয়েট ব্ল্যাক কমিউনিটি ফুড সার্বভৌমত্ব নেটওয়ার্কের সহ-নির্বাহী পরিচালক বলেন, “বন্ধ-লুপ খাদ্য অর্থনীতি তৈরি করে আমরা অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত মূলধন পুনর্ব্যবহার করি, যা ‘বর্জ্য’কে নতুন সংজ্ঞা দেয়।”
শহরের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে একাধিক ড্রপ-অফ সাইট এবং কার্বসাইড পিকআপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্যব্যাপী ল্যান্ডফিল থেকে ৫০ শতাংশ খাদ্য বর্জ্য সরানোর লক্ষ্যে ডেট্রয়েট আরও এগিয়ে যাবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
এই প্রকল্পকে ডেট্রয়েটবাসীর জন্য শুধু পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নয়, বরং টেকসই ভবিষ্যতের পথে এক অনন্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
source: http://detroitnews.com
মন্তব্য করুন