প্রচ্ছদ

সিলেটে বিনা চিকিৎসায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ

২৬ মার্চ ২০২০, ০৮:২৬

banglashangbad.com

নগরীর হাউজিং এস্ট্রেটে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার নিজ বাসভবনে রাত ৯ ঘটিকায় মারা যান ওই ব্যক্তি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে. মৃত ব্যক্তির নাম গিয়াস উদ্দিন(৬৫) । তিনি নগরীর হাউজিং এস্ট্রেট এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন থেকে কিডনী সমস্যায় ভুগছিলেন। গেলো ১৪ মার্চ গিয়াস উদ্দিনের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছেলে স্ত্রীসহ দেশে পৌছেন। এরপর ১৮ মার্চ প্রবাসী ছেলে পিতা গিয়াস উদ্দিনকে সাথে নিয়ে সিলেট কিডনী ফাউন্ডেশনে যান ডায়ালিসিসের জন্য। সেখান থেকে গিয়াস উদ্দিনের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জেনে প্রবাসীর পিতাকে চিকিৎসা প্রদান থেকে বিরত থাকে কিডনি ফাউণ্ডেশন। সেই সাথে করোনা সন্দেহে গিয়াস উদ্দিনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ প্রদান করেন কিডনি ফাউণ্ডেশনের কর্মরত চিকিৎসক।

এদিকে, করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা না গেলেও কিডনি ফাউণ্ডেশন কতৃপক্ষের এমন জবাবে হতাশ হয়ে পরে মৃত গিয়াস উদ্দিনের পরিবার। পরে নগরীর অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও গিয়াস উদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় পরিবার। জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া থেকে শুরু করে নুরজাহান ক্লিনিকসহ প্রায় ৭টি হাসপাতাল ঘুরেও এসেও চিকিৎসা সেবা পাননি গিয়াস উদ্দিন। নিজ পিতার চিকিৎসা করাতে না পেরে ক্ষোভে-দু:খে ২১ মার্চ আবারো স্ত্রীসহ যুক্তরাজ্য চলে যান ওই প্রবাসী।

এরপর ২৩ মার্চ নিয়মিত কিডনি চেকআপের তারিখ অনুযায়ী পরিবার সদস্যদের মাধ্যমে আবারো চেকআপের জন্য গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হয় কিডনি ফাউণ্ডেশনে। সেবা প্রদানে কিডনি ফাউণ্ডেশনের একই উত্তর বহাল থাকায় গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে নিজ বাসায় ফিরে যায় পরিবার।

এদিকে খবর পেয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনকে দেখতে বাসায় যান ২৩ মার্চ। গিয়াস উদ্দিনের শরীরে করোনার সংক্রামন থাকতে পারে-এমন সন্দেহ পোষণ করা হলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাঁর শরীর থেকে কোনো নমুনা সংগ্রহ করেননি বা হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেননি। এ অবস্থায় ২৪ মার্চ অবশেষে বিনা চিকিৎসায় মারা যান গিয়াস উদ্দিন। আজ বাদ জোহর নগরীর দরগাহ মসজিদে মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যু পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাতিজার একটি আবেগঘন পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পোস্টে তিনি চাচার মৃত্যুর জন্য কিডনি ফাউন্ডেশনকে দায়ি করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাউজিং এস্টেট ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সভাপতি ওমর মাহবুব।  তার

ওমর মাহবুবের পোষ্ট হুবুহু তুলে ধরা হলো::

আমার চাচা দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনী ও নানাবিদ রোগে আক্রান্ত। তিনি নিয়মিত সিলেট কিডনী হাসপাতালে ডায়ালাইসিস দিয়ে আসছেন। ২৩ মাচ উনার ডায়ালাইসিস দেয়ার তারিখ ছিলো। উনার চার ছেলে, চার জনই ব্রিটেনে থাকেন। একজন ছেলে অদ্য এসেছিলেন বাবাকে দেখার জন্য। দুর্ভাগ্যক্রমে বাবার প্রতি ভালোবাসায় ডায়ালাইসিস দেয়ার জন্য উনি নিজেই বাবাকে কিডনী হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাভাবিক ভাবে ডায়ালাইসিস দিতে বিলম্ব হলে শ্বাসকষ্ট অনূভুত হয়। ছেলে ব্রিটেন ফেরৎ আর বাবার শ্বাসকষ্ট দেখে ডাক্তাররা ডিক্লেয়ার করে দিলেন উনার কোরোনা ভাইরাস ও সব হাসপাতালে ম্যাসেজ দিয়ে দিলেন উনাকে ডায়ালাইসিস না দেয়ার জন্য। উনি দীর্ঘ ৫ দিন অসহায়ের বীনা চিকিৎসায় ছটফট করে গতকাল রাত ৯ ঘটিকায় মৃত্যুবরন করেন। উনার যদি কোরোনা ভাইরাস থাকতো তাহলে উনার স্ত্রি ৬০ বছর ও উনার শাশুড়ীর ৮৫ বছর বয়স্ক উনার পাশে ছিলেন তাহলে তারাও কোরোনা ভাইরাস আক্রান্ত হতেন। এখন আমার চাচার মৃত্যুর ভার কে নিবেন কিডনী হাসপাতাল, না আমাদের অমানবিকতা।আজ এই ক্রান্তিকালে এই কথা পরিস্কার মানুষ মানুষের জন্যে নয়, সৃষ্টিকর্তাই মানুষের জন্যে।
চাচার জানাযার নামাজ আজ বাদ যোহর দরগাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।িবি

নগরীর হাউজিং এস্ট্রেটে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার নিজ বাসভবনে রাত ৯ ঘটিকায় মারা যান ওই ব্যক্তি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে. মৃত ব্যক্তির নাম গিয়াস উদ্দিন(৬৫) । তিনি নগরীর হাউজিং এস্ট্রেট এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন থেকে কিডনী সমস্যায় ভুগছিলেন। গেলো ১৪ মার্চ গিয়াস উদ্দিনের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছেলে স্ত্রীসহ দেশে পৌছেন। এরপর ১৮ মার্চ প্রবাসী ছেলে পিতা গিয়াস উদ্দিনকে সাথে নিয়ে সিলেট কিডনী ফাউন্ডেশনে যান ডায়ালিসিসের জন্য। সেখান থেকে গিয়াস উদ্দিনের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জেনে প্রবাসীর পিতাকে চিকিৎসা প্রদান থেকে বিরত থাকে কিডনি ফাউণ্ডেশন। সেই সাথে করোনা সন্দেহে গিয়াস উদ্দিনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ প্রদান করেন কিডনি ফাউণ্ডেশনের কর্মরত চিকিৎসক।

এদিকে, করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা না গেলেও কিডনি ফাউণ্ডেশন কতৃপক্ষের এমন জবাবে হতাশ হয়ে পরে মৃত গিয়াস উদ্দিনের পরিবার। পরে নগরীর অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও গিয়াস উদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় পরিবার। জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া থেকে শুরু করে নুরজাহান ক্লিনিকসহ প্রায় ৭টি হাসপাতাল ঘুরেও এসেও চিকিৎসা সেবা পাননি গিয়াস উদ্দিন। নিজ পিতার চিকিৎসা করাতে না পেরে ক্ষোভে-দু:খে ২১ মার্চ আবারো স্ত্রীসহ যুক্তরাজ্য চলে যান ওই প্রবাসী।

এরপর ২৩ মার্চ নিয়মিত কিডনি চেকআপের তারিখ অনুযায়ী পরিবার সদস্যদের মাধ্যমে আবারো চেকআপের জন্য গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হয় কিডনি ফাউণ্ডেশনে। সেবা প্রদানে কিডনি ফাউণ্ডেশনের একই উত্তর বহাল থাকায় গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে নিজ বাসায় ফিরে যায় পরিবার।

এদিকে খবর পেয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনকে দেখতে বাসায় যান ২৩ মার্চ। গিয়াস উদ্দিনের শরীরে করোনার সংক্রামন থাকতে পারে-এমন সন্দেহ পোষণ করা হলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাঁর শরীর থেকে কোনো নমুনা সংগ্রহ করেননি বা হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেননি। এ অবস্থায় ২৪ মার্চ অবশেষে বিনা চিকিৎসায় মারা যান গিয়াস উদ্দিন। আজ বাদ জোহর নগরীর দরগাহ মসজিদে মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যু পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাতিজার একটি আবেগঘন পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পোস্টে তিনি চাচার মৃত্যুর জন্য কিডনি ফাউন্ডেশনকে দায়ি করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাউজিং এস্টেট ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সভাপতি ওমর মাহবুব।

ওমর মাহবুবের পোষ্ট হুবুহু তুলে ধরা হলো:: 

আমার চাচা দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনী ও নানাবিদ রোগে আক্রান্ত। তিনি নিয়মিত সিলেট কিডনী হাসপাতালে ডায়ালাইসিস দিয়ে আসছেন। ২৩ মাচ উনার ডায়ালাইসিস দেয়ার তারিখ ছিলো। উনার চার ছেলে, চার জনই ব্রিটেনে থাকেন। একজন ছেলে অদ্য এসেছিলেন বাবাকে দেখার জন্য। দুর্ভাগ্যক্রমে বাবার প্রতি ভালোবাসায় ডায়ালাইসিস দেয়ার জন্য উনি নিজেই বাবাকে কিডনী হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাভাবিক ভাবে ডায়ালাইসিস দিতে বিলম্ব হলে শ্বাসকষ্ট অনূভুত হয়। ছেলে ব্রিটেন ফেরৎ আর বাবার শ্বাসকষ্ট দেখে ডাক্তাররা ডিক্লেয়ার করে দিলেন উনার কোরোনা ভাইরাস ও সব হাসপাতালে ম্যাসেজ দিয়ে দিলেন উনাকে ডায়ালাইসিস না দেয়ার জন্য। উনি দীর্ঘ ৫ দিন অসহায়ের বীনা চিকিৎসায় ছটফট করে গতকাল রাত ৯ ঘটিকায় মৃত্যুবরন করেন। উনার যদি কোরোনা ভাইরাস থাকতো তাহলে উনার স্ত্রি ৬০ বছর ও উনার শাশুড়ীর ৮৫ বছর বয়স্ক উনার পাশে ছিলেন তাহলে তারাও কোরোনা ভাইরাস আক্রান্ত হতেন। এখন আমার চাচার মৃত্যুর ভার কে নিবেন কিডনী হাসপাতাল, না আমাদের অমানবিকতা।আজ এই ক্রান্তিকালে এই কথা পরিস্কার মানুষ মানুষের জন্যে নয়, সৃষ্টিকর্তাই মানুষের জন্যে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

আমাদের মোবাইল এপ্পসটি ডাউনলোড করুন