প্রচ্ছদ

হ্যামট্রামিক শহরে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস স্থাপনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব: কামাল রহমান

০২ আগস্ট ২০২১, ২৩:২৬

ইকবাল ফেরদৌস, মিশিগান:

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাংলা টাউনখ্যাত হ্যামট্রামিক সিটির আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশি-আমেরিকান এ এস এম কামাল রহমান।

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় কামাল রহমান হ্যামট্রামিক শহরের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং কমিউনিটির বাইরে যারা আছে সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবেন । সম্প্রতি বাংলা সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও টিভি সেভেন বাংলার পরিচালক ইকবাল ফেরদৌসকে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।

কামাল রহমান বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নাগরিক অধিকার আদায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছি । তাছাড়া আমি সরকারের অর্থ বিভাগ এবং প্রশাসনিক কাজে দক্ষতা অর্জন করেছি। যা একজন আদর্শ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনে আমাকে সহযোগিতা করবে।

একমাত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান এই মেয়র প্রার্থী তার নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে বলেন, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং আমার অভিজ্ঞ নেতৃত্ব কাজে লাগিয়ে হ্যামট্রামিক শহরকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলব এবং সেই সাথে নতুন প্রজন্মের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করব।

হ্যামট্রামিক শহরে বসবাসরত নাগরিকেরা ইলেকট্রনিকালি ট্যাক্স পেমেন্ট করতে পারেনা। তাদেরকে হয় মেইল করতে হয়, না হয় ড্রপবক্সে ফেলতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হন। এ বিষয়ে কামাল রহমান বলেন, ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহে যোগাযোগ করে কিভাবে এটি ইলেকট্রনিকালি করা যায় সে বিষয়ে কথা বলেছি। নির্বাচিত হলে এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং যত দ্রুত সম্ভব সেটাকে বাস্তবায়ন করব।

কিছুদিন আগে হ্যামট্রামিক শহরে বন্যা হয়েছে এবং অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি বিষয় বলা হচ্ছে যে এখানে ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর দুর্বলতা ছিল। আপনি নির্বাচিত হওয়ার পর এ ব্যাপারে কি ধরনের পদক্ষেপ নিবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রহমান বলেন, বর্তমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে সেটি পরিবর্তনে অনেক ডলার দরকার। যা তাৎক্ষণিকভাবে করা কিছুটা অসম্ভব। যেটা করা যায় আমার মতে সেটা হল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনতে হবে। সেই সাথে বেজমেন্টের উচ্চতা বাড়াতে হবে । পাশাপাশি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা করে রেখেছি। নির্বাচনে জয়ী হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেব।

এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ সম্পর্কে রহমান বলেন, গত নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে আমার কমিউনিটির সকলে আমাকে এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। তারা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে বলেছেন যে আমাদের একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান মেয়র দরকার। হ্যামট্রামিক শহরে বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এখানে কমিউনিটির স্বার্থে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় সিটিতে কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা নেওয়ার জন্য একজন প্রতিনিধি দরকার হয় । যদিও এখানে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকে রয়েছে, তারপরও স্থানীয় কোন সরকারি কাজের ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়। আমাদের যদি একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকে, তাহলে সহজেই আমরা সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে আমাদের যথাযথ সুবিধা গ্রহণ করতে পারব। তাছাড়া, আমি যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারের সাথে কাজ করছি, সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হলে সকল কার্যাদি যথাযথভাবে করতে পারব।

আপনি নির্বাচিত হলে আপনি হবেন হ্যামট্রামিক শহরে প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান মেয়র। সেক্ষেত্রে কমিউনিটির জন্য আপনার কি কি করার আছে বলে আপনি মনে করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রহমান বলেন, এখানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য আমাদের প্রথম যে জিনিসটা দরকার সেটা হলো সবাইকে একত্রিত করা । আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি, এখানে বসবাসরত বাংলাদেশীরা অনেকটা ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতে বিভক্ত। আমাদের বাংলাদেশে যেমন রাজনৈতিকভাবে একটা ভিন্নতা আছে, সেটি এই সুদূর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি আমেরিকানদের মধ্যে কাজ করে। আমরা যদি একত্রিত না থাকতে পারি এবং সম্মিলিতভাবে কোন কাজ না করতে পারি, তাহলে আমরা এখানে অনেক কিছু পাওয়া থেকে বঞ্চিত হব ।

রহমান আরও বলেন, হ্যামট্রামিক শহরে একটি বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হবে। যার জন্য আমাদের একত্রিত হওয়া খুবই প্রয়োজন। আমি নির্বাচিত হলে এটি বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব । আমাদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করলে, তার মাধ্যমে আমরা সহজেই আমাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া গুলো আদায় করতে পারব ।

ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে রহমান বলেন, এবার নির্বাচনে তিনজন কাউন্সিলর এবং একজন মেয়র প্রার্থী আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে লড়ছেন । এটি খুবই খুশির সংবাদ । সুতরাং যারা এখানে ভোটার আছেন তারা অবশ্যই আমাদের কমিউনিটি এবং দেশের স্বার্থে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন। যদি আমরা আমাদের কমিউনিটির ভিতর থেকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারি, তাহলে এটা হবে আমাদের সকলের জন্য একটা বিরাট সম্মানের ব্যাপার ।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

আমাদের মোবাইল এপ্পসটি ডাউনলোড করুন