প্রচ্ছদ

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উদযাপিত

০৮ মে ২০২২, ১৯:০৭

বাংলা সংবাদ ডেস্ক

হৃদয় উৎসারিত আবেগ ও শ্রদ্ধায়  বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আজ নোভেল বিজয়ী, কাব্যগীতির শ্রেষ্ঠ শ্রষ্টা, দ্রষ্টা ও ঋষি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী  উদযাপিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এবার জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রতিপাদ্য ‘মানবতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ’। জন্মবার্ষিকী  উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করে সরকার।  মূল অনুষ্ঠান ছিল রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া  জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।  বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। স্বাগত বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল মনসুর। স্মারক বক্তৃতা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর সনৎ কুমার সাহা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী নতুনের বার্তা নিয়ে আসে, যা কালের আবর্তে কখনো মলিন হয় না। প্রাণে নিয়ে আসে উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ও উচ্ছলতা। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়েছেন, রচনা করেছেন- “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”- যেটিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতীয় সংগীত হিসাবে নির্বাচন করেছেন। স্পিকার বলেন, বাঙালির আবেগ-অনুভূতি, সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, আনন্দ-বেদনা প্রভৃতি স্থান খুঁজে পায় রবীন্দ্র লেখনীতে। ‘সত্য ও সুন্দর সবসময় বিরাজ করে’- রবীন্দ্রনাথ এটি ধারণ করতেন।  তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে যে সংকট, অশান্তি যুদ্ধাবস্থা, সমাজের সকল অনাচার-অবিচার দূরীকরণ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আমাদের কবির কাছ থেকে অনেক কিছু জানার ও শেখার রয়েছে। তিনি এসময় কবির লেখনী থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন প্রজন্মকে দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগের আহবান জানান।

কে এম খালিদ  বলেন, রবীন্দ্রনাথ মূলত আমাদের পূর্ববঙ্গের। কারণ পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশে অবস্থান তাঁকে পরিপূর্ণ রবীন্দ্রনাথ করেছে, মাটি ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় আত্মীয়তার বন্ধনে বেঁধেছে। এদেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে কবির স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন স্থাপনা। জমিদারি পরিচালনা করতে এসে এসব জায়গায় থেকেছেন কবি, রচনা করেছেন তাঁর মহামূল্য সাহিত্যকর্ম, তার মধ্যে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি অন্যতম। ১৮৯১ থেকে ১৯০১ সালের মধ্যে অল্প বিরতিতে কবি নিয়মিত কুঠিবাড়িতে অবস্থান করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন,  এ বাড়িতে বসেই কবি রচনা করেছেন তাঁর অমর সৃষ্টি সোনারতরী, চিত্রা, চৈতালী, কথা ও কাহিনী, ক্ষণিকা, নৈবদ্য ও খেয়া কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতাসহ অনেক উল্লেখযোগ্য রচনা। কবিগুরুর নোবেল জয়ের হাতিয়ার ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদও শুরু করেন এখানেই। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ও বাঙালির শৈল্পিক অহংকার। প্রতিভা ও শ্রমের যুগলবন্দি সম্মিলনে তিনি কবিতা-গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ-নিবন্ধ-নাটক-শিশুসাহিত্য-জীবনী-শিক্ষাভাবনা ইত্যাদি সকল শাখায় সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহণ করেছেন, বাংলা সাহিত্যকে করেছেন ঐশ্বর্যমন্ডিত। সংগীত ও চিত্রকলায়ও তাঁর অবদান অনন্যসাধারণ। নোবেল পুরস্কার এনে দিয়ে বাংলা ভাষাকে, বাংলা সাহিত্যকে, বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসনে বসিয়েছেন। তিনি  বলেন, রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে জাতির সংকট মোচনে এক মহামানবের আগমন প্রত্যাশা করেছিলেন। বাঙালি তথা উপমহাদেশের ক্রান্তিলগ্নে সেই মহামানবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ তাঁর রচনায় একদিকে যেমন কায়েমি স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, ক্ষমতার মদমত্ততার বিরুদ্ধে স্বর শাণিত করেছেন অন্যদিকে তেমনি সভ্যতার সুষমায় নারীশক্তির শুভ উদ্বোধন কামনা করেছেন, পাষাণ রাজতন্ত্রের বিপরীতে চিরায়ত হৃদয়তন্ত্রের গান গেয়েছেন।

জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তিনদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবির চিত্রশিল্প প্রদর্শনী এবং কবির উপর নির্মিত ডকুমেন্টারির মাসব্যাপী প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। ঢাকাসহ কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসর এবং খুলনার দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রমেলা, রবীন্দ্রবিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে স্থানীয় প্রশাসন।

এছাড়াও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ করেছে। বাংলা একাডেমিসহ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল দপ্তর ও সংস্থাসমূহ এ উপলক্ষ্যে বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালকের তত্ত্বাবধানে ঢাকার রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে জোড়াসাঁেকার ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি  ১৯১৩ সালে তার গীতাঞ্জলী গ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। কবির গান-কবিতা, বাণী এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তির ক্ষেত্রে প্রভূত সাহস যোগায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে শুধু নয়, চিরকালই কবির রচনাসমূহ প্রাণের সঞ্চার করে। আমাদের প্রতিটি সংগ্রামেই শুধু নয়, কবির চিরায়ত রচনাসমগ্র আজীবন স্বরণের র্র্শীষতায় আবিষ্ট হয়ে আছে।  তাঁর লেখা ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রেরণা যুগিয়েছিল তাঁর অনেক গান।

শেয়ার করুন

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

আমাদের মোবাইল এপ্পসটি ডাউনলোড করুন