প্রচ্ছদ

মিশিগানে এক মানবিক আলী ভাইয়ের গল্প

০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২০

জুয়েল খান

মার্কিন মুল্লুকের ব্যস্ত জীবনে প্রতিটি ‘মুহুর্ত ‘ যেন রুটিনবাঁধা । জীবন যুদ্ধে ক্যালেন্ডারের প্রতিটি ‘দিন ক্ষণ ‘ থাকে যেন পূর্ব নির্ধারিত । প্রতিটি মানুষ জীবন আর জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়তো লড়াই করে যাচ্ছে স্ত্রী সন্তান আর পরিবারের সদস্যদের জন্য। রুটিনবাঁধা জীবন ব্যবস্থায় নিজের কাজকর্ম   আর নিজের সংসারের সুবিধা-অসুবিধায়  আবদ্ধ মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে অভিবাসী  বাংলাদেশী পরিবারগুলো।

আত্নকেন্দ্রীক জীবন ব্যবস্থায় নিজের পরিবারপরিজন ছাড়াও অনেকে কমিউনিটির বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়িয়ে সহযোগীতার হাত প্রসারিত করছেন।তাদের মধ্যে একজন হলেন কমিউনিটির অতিপরিচিত মুখ সজল আলী ।

কমিউনিটিতে যিনি “আলীভাই “হিসাবে পরিচিত ।দীর্ঘ দুই দশক ধরে নীরবে নিভূতে  মিশিগান স্টেটে বাংলাদেশী কমিউনিটির বিপদগ্রস্ত মানুষের “মুশকিল আহসানে” আর্বিভূত হয়েছেন মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত একজন “আলী ভাই”।

বিপদগ্রস্ত যে কোন ব্যক্তি বা পরিবার সেলফোনে কল দিলেই বিপদগ্রস্তদের ঠিকানায় হাসিমুখে  ছুটে আসছেন সকলের প্রিয় আলী ভাই। সাধ্যমত সহযোগীতা করে আবার অন্য বিপদগ্রস্তের ডাকে সাড়া দিয়ে  ছুটে যাচ্ছেন অন্যখানে । এ ভাবে কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে আলী ভাইয়ের মানবতার গল্প। মিশিগানে আগত বিশেষ করে নতুন অভিবাসী বাংলাদেশী পরিবারের পাশাপাশি ব্যয় বহুলতার জন্য নিউইয়র্ক,নিউজার্সীসহ বিভিন্ন স্টেট  থেকে মিশিগানে মুভ হওয়া প্রাথমিক  বিপদগ্রস্ত মানুষদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের চেম্বার,গুরুতর অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসার  জন্য নিয়ে যাওয়া।

কাজের জন্য বিভিন্ন জব এজেন্সির সাথে মিট করেদেয়া।সাশ্রয়ে রেন্টে বাসাবাড়ি খোঁজে দেয়া, যাদের গাড়ি নেই তাদের ফ্রি রাইড দিয়ে সহযোগীতা করা। অভাবগ্রস্ত পরিবারের কেউ মারা গেলে দাফনকাজের আনুস্টানিকতাসহ সাধ্যমত সহযোগীতা প্রতিনিয়ত করে থাকেন।এ ছাড়া কমিউনিটির নিন্ম আয়ের লোকজনের নাগরিক সুবিধা পেতে সাহায্য পেতে সহযোগিতা করে থাকেন সজল আলী।একাধিক মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিস্টান গড়ে উঠার পিছনে রয়েছে তার অন্যতম  বিশেষ অবদান ।

সজল আলীর এই মানবিক কর্মকান্ড কমিউনিটির মানুষের  কাছে প্রশংসা কুড়াচ্ছে । সজল আলীর মানবিক এই কর্মকান্ড স্টেট জুড়ে হলে হ্যামটামিক ও ডেট্রয়েট সিটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশী কমিউনিটির বিপদগ্রস্তদের মাঝে তার এই মানবিক সেবা অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে “আলীভাই” হিসাবে খ্যাত মানবতাবাদী আলী ভাইর পুরো নাম শেখ সজল আলী। বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার রাজনপুর গ্রামে।১৯৮৮ সালে অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসেন তিনি। নিউইয়র্ক একযুগ বসবাস করলেও ব্যবসায় লসের কারণে নিউইয়র্ক শহরে পরিবার নিয়ে বসবাস কঠিন হয়ে উঠলে ২০০০ সালে নিউইয়র্ক থেকে মিশিগানে মুভ করেন  সজল আলী।প্রথম অবস্থায় মিশিগানে ফ্যাক্টরিতে কাজ করলেও পরে টেক্সি চালনাকে পেশা হিসাবে বেচে নেন তিনি।

পাশাপাশি কমিউনিটির বিপদগ্রস্তদের পাশে দাড়াতে শুরু করেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে কমিউনিটির বিপদগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন সজল আলী ।ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী ,তিন কন্যা ও একপুত্র সন্তান নিয়ে সুখের সংসার । বর্তমানে দুই মেয়ে নার্সিং পেশায় যুক্ত রয়েছেন।একমাত্র পুত্র কোরআনে হাফেজ।ছোট মেয়ে মাধ্যমিক স্কুলে অধ্যায়নরত।

সজল আলীর মানবতার কথা বলতে গিয়ে নিউইয়র্কে বসবাসকারী আলই মিয়া  বলেন, এই বূদ্ধ বয়সে কাজের সন্ধানে পরিবারকে নিউইয়র্ক রেখে মিশিগানে ছুটে আসি।বাসাভাড়া নেই আত্নীয়ের বেইজমেন্টে। একদিন রাতে বুকে ব্যথা ও শুরু হলে আলীভাইকে কল দিলে সাথে সাথে তিনি ছুটে আসেন।আলীভাই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আমার বাইপাস সার্জারি হয়। আমার পরিবার নিউইয়র্ক থেকে আসার আগ পর্যন্ত আলীভাই আমার দেখভাল ও সেবায় ব্যস্ত ছিলেন।

মিশিগানে বসবাসকারী শুকুর আলী বলেন, ব্যস্ত জীবনে আলী ভাই একজন ব্যতিক্রমী মানুষ ।মানুষের উপকার করা তার নেশায় পরিণত  হয়েছে। ছেলেমেয়েদের তার মত গড়ে তুলেছেন ।

বাংলাদেশী কমিউনিটি লিডার ইঞ্জিনিয়ার আহাদ আহমেদ বলেন,সজল আলী কমিউনিটি জন্য অনেকদিন ধরে কাজ করছেন । সজল আলীর মত সমাজের কল্যাণে সবাইকে মানুষের পাশে দাড়াঁনো উচিত।

এ বিষয়ে সজল আলী বলেন, কোন মানুষ ই সারা জীবন বিপদগ্রস্ত থাকেনা ।যে কোন নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। মানব জীবনে যদি মানুষের বিপদেআপদে পাশে না থাকলাম সে জীবন মুল্যহীন। মানুষের জন্য কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। সবই আল্লাহ ইচ্ছা  নবী ও রসুলের দেখানো পথে আমাদের চললে ইহকাল ও পরকালে আমাদের কল্যাণ সম্ভব । আল্লাহ পাক সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার তওফিক দান করুন।

শেয়ার করুন

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

আমাদের মোবাইল এপ্পসটি ডাউনলোড করুন