প্রচ্ছদ

ভাইরাস নিয়ে ভয়ংকর খেলা খেলছেন বিল গেটস?

০৮ এপ্রিল ২০২০, ২০:২৫

বাংলা সংবাদ ডেস্ক :

বিশ্বের দু’শ ৯টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯২। বিশ্বের ৮২ হাজার একশ ৯১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই মারণ ভাইরাস করোনা। অপরদিকে, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন তিন লাখ দুই হাজার নয়শ ৮৯ জন।

করোনাভাইরাস জৈবাস্ত্র নাকি প্রাকৃতিকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। তবে বলা হচ্ছে, এই মারণ ভাইরাসটি প্রাণিদেহ থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কিছু ভাইরাস কেবল প্রাণিদেহেই সংক্রমিত করে, যেমন বিড়াল ও বাদুড়কে। আর কিছু ভাইরাস আবার প্রাণিদেহ থেকে মানুষের শরীরে আসতে পারে না। মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে না। জেনেট ওসেবার্ড নামের এক নারী তার ডকুমেন্টারিতে এরকমটাই দাবি করেছেন।

ডাক্তার, ভাইরোলজিস্ট, ডিএনএ বিষেশজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তিনি জানান, বাদুড় খেয়ে প্রথম ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন; এটি এক ধরনের ভুয়া তথ্য। তার দাবি, এই ভাইরাসটি প্রথমে মানুষের শরীর থেকেই অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মানুষের শরীরে কোষে আক্রমণ করে। তরপর মারাত্মক ছোঁয়াচে এই রোগটি মহামারি আকার ধারণ করে।

তিনি ওই ডকুমেন্টারিতে দাবি করেন, বাদুড়ের শরীর থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস এসে বাঁচতে পারবে না। কারণ যে ভাইরাস বাদুড়ের শরীরকে হোস্ট বানায় সে ভাইরাস মানুষের শরীরকে হোস্ট বানাতে পারবে না। মানুষের শরীরে এসে মিশতে পারবে না। আর যদিও মিশে তাহলে অনেক সময় লাগবে। এরপর হয়তো একটি সাধারণ ফ্লুর মতো অসুখ তৈরি করবে।

জেনেট ওসেবার্ডের মতে, করোনা একটি মরা বাদুড় থেকে ছড়িয়েছে; এমন গল্প বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ এক ধরনের অপ্রকৃতিস্থ কাহিনি ছড়িয়েছে। ছড়িয়ে পড়ার আগে ভাইরাসটিকে অবশ্যই প্রোটিন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এটিকে প্রাকৃতিকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস নয় বরং ইচ্ছাকৃতভাবে নিখুঁত প্রোটিন ইঞ্জিনিয়ারিং করা ভাইরাস বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

জেনেট ওসেবার্ড তার ডকুমেন্টারিতে টেনে নিয়ে এসেছেন মাইক্রোসফট করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকেও। বিল গেটস করোনার ভ্যাকসিন তৈরি জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন। জেনেটের দাবি, কোনো ধরনের স্বার্থ ছাড়া বিল গেটস এই বিপুল পরিমাণের অর্থ সহায়ত দেননি। ওষুধ সংস্থাগুলো তাকে ভ্যাকসিন এবং ওষুধ উত্পাদনে আর্থিক সহায়তার জন্য বিপুল অংকের সুদ দেবে বলে তিনি জানান। সত্যিকার অর্থে বিল গেটস এরকম একটি বিশ্ব মহামারিতে নিজের পকেট ভারী করতে যাচ্ছেন।

জেনেট, বিশ্বজুড়ে মানবহিতৈষী হিসেবে পরিচিত বিশ্বের অন্যতম বিলিয়নেয়ার বিল গেটস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন। তার মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ করোনা নিয়ে আজগুবি গল্প ছড়াচ্ছে। আর করোনার ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে বিপুল অংকের অর্থ অনুদান দেওয়া বিল গেটসকে স্বার্থান্বেষী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জেনেট।

তিনি জানান, ২০১৯ সালে নেটফ্লিক্সে একটি সিরিজ সম্প্রচারিত হয়েছিল সর্বজনীন ভ্যাকসিন তৈরি নিয়ে। সেখানে দেখানো হয় কিভাবে একটি মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব। সেই সিরিজে অর্থয়ান করেছেন বিল গেটস। করোনা ছড়িয়ে পড়ার আগে তিনি আরো দু’টি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়ার্কের একটি অনুষ্ঠানেও তিনি যান। মহামারি নিয়ে ইভেন্ট টু জিরো ওয়ান (২০১) নামক একটি অনুষ্ঠানেও বিপুল পরিমাণ অর্থায়ন করেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণও করেন।

ইভেন্ট টু জিরো ওয়ান (২০১) হলো একটি ট্যাবলটপ অনুশীলন যা বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম মহামারি তৈরি করে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করে। তাদের তৈরি কৃত্রিম মহামারির পরই নতুন করোনাভাইরাস মহামারি দেখা দিয়েছে। বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অংশীদারিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনস হপকিনস সেন্টার এই প্রোগ্রামটির আয়োজন করেছিল। গত বছরের অক্টোবর মাসে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। এর দুই মাস পরই ছড়িয়ে পড়ে করোনা।

জেনেটের মতে, এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর উহানের জন হেই বিমানবন্দরে প্রথম করোনা রোগী নিয়ে এক মহড়া চালানো হয়। শরীরে করোনাভাইরাস রয়েছে এমন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি মহড়া হয়েছিল সেখানে। সেটিতেও হাত ছিল বিল গেটসের। হয় বিল গেটস ও তার বন্ধুরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পাগল বা আপনি ও আমরা যা জানি তার চেয়ে বেশি জানে বিল গেটস ও তার বন্ধুরা।

ডকুমেন্টারিতে তিনি জানান, অনেকেই জানেন না, বিল গেটসেই হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পিছনে থাকা বড় আর্থিক শক্তি। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা একটি উদ্দেশ্যমূলক সংস্থা। মানবতার কল্যাণে সংস্থাটি দাতব্য সংস্থা বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ডলারে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এতো কিছুর পেছনে কার হাত রয়েছে?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

আমাদের মোবাইল এপ্পসটি ডাউনলোড করুন