প্রচ্ছদ

পিঁপড়া থেকে শেখার আছে অনেক কিছু

০৯ জানুয়ারি ২০২০, ০২:০২

banglashangbad.com

পিঁপড়া পৃথিবীর আদিতম প্রাণিগুলোর একটি। ক্ষুদ্রতর প্রাণির মধ্যেও পিঁপড়া অন্যতম। কিন্তু এ ক্ষুদ্র প্রাণির কাছ থেকে আমাদের শেখার আছে অনেক কিছু। কর্ম বৈশিষ্টের জন্য ক্ষুদ্র প্রাণিটিকে অনেক সময় উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পিঁপড়া বহুবিধ গুণে গুণান্বিত।

দলবদ্ধতা: পিঁপড়া সব সময় দলবদ্ধ হয়ে চলতে পছন্দ করে। পিঁপড়াদের একাত্মতাবোধ খুব বেশি। খাবার জোগাড় করা বা যেকোনো কাজের সময় দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে। দলনেতা হলো রানি পিঁপড়া। রানি পিঁপড়াকে মেনে চলে সবাই। লাইন ধরে চলাফেরা করে। নিজেদের দুঃখ-কষ্ট পরস্পরের মধ্যে শেয়ার করে। শীতকালের জন্য খাবার গরমের দিনে কে কতটা জোগাড় করল, আর কতটা জোগার করতে বাকি, তা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়।

দূরদর্শিতা: পিঁপড়া ভীষণ দূরদর্শী। সারা বছর পরিশ্রম করে শীতকালের খাবার জোগাড়ের জন্য। শীতকালে ঠান্ডার জন্য খাবার সংগ্রহে কষ্ট হবে বলে সারা বছর খাবার জোগার করে। বিপদ থেকে বাঁচার জন্য দলবেঁধে চলাফেরা করে। কোনো বিপদের কথা শুনলে মুহূর্তের মধ্যে সে তথ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়। আমরা যদি আমাদের বিপদের দিনের জন্য সাধ্যমতো সঞ্চয় করি, তাহলে আমরা উপকৃত হবো। আর জীবনে জয়ী হওয়ার জন্য শুধু নিজের বুদ্ধি দিয়ে চললে হবে না। অন্যদেরও বুদ্ধি-পরামর্শ আমাদের কাজে লাগবে।

অক্লান্ত পরিশ্রমী: ক্ষুদ্র এ প্রাণী অক্লান্ত পরিশ্রমী। পিঁপড়ার দেহের ওজনের তুলনায় ২০ গুণ বেশি ওজন বহন করতে পারে। পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে। সব প্রজাতির পিঁপড়াই পরিশ্রমী। আমরা যদি আমাদের মেধার সাথে শ্রমকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি, তবেই সফলতা সম্ভব। অলস ব্যক্তিরা কখনো সফল হতে পারে না। তাদের মেধা থাকলেও পরিশ্রমের অভাবে সবার পেছনে পড়ে থাকে।

দক্ষ সংগঠক: প্রতিটি পিঁপড়ার মধ্যে রয়েছে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রবল মেধা। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, দলের পরস্পরের প্রতি মায়া-মমতা, দূরদর্শিতার জন্য মিলিয়ন বছর আগের এ প্রাণি পৃথিবীতে এখনো টিকে আছে। তাদের রয়েছে চরম শৃঙ্খলাবোধ। তাদের গোত্রের সবার কাজ ভাগ করা থাকে, কেউ অলসভাবে দিন কাটায় না। তাই আমরা যদি পরিবারের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করি, অন্যের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াই, তাহলে এর সুফল আমরাই ভোগ করবো। কাকে কখন কাজে লাগবে, আমরা কেউ জানি না। কার জীবনে কখন কী বিপদ হবে, সব অনিশ্চিত। তাই আমাদের উচিত পিঁপড়ার বিদ্যাকে কাজে লাগানো।

উদারতা: উদারতার অভাবে জগৎ-সংসারে প্রচুর অশান্তি হয়। রক্তের সম্পর্কের আপনজন পর্যন্ত দূরে সরে যায়। পিঁপড়া সহকর্মীদের প্রতি ভীষণ উদার। একজনের জোগার করা খাবার শর্তহীনভাবে অন্যকে দেয়। দুঃখ-কষ্ট, সফলতা, খাবার পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করার প্রবণতা এ প্রাণির মধ্যে সত্যিই প্রশংসনীয়। পিঁপড়ার উদারতার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ ভীষণ প্রশংসনীয়। তাই জীবনে শান্তি নিয়ে বাঁচতে হলে চারপাশের মানুষের উপকার করতে হবে। অবশ্য সব সময় সম্ভব হয় না। তবে কারো বিপদে অন্তত একটু ভালো কথা বলে সাহস-সান্ত্বনা দেওয়াটাও হতে পারে সেই মানুষের জন্য উপকার। অন্যের বিপদে ব্যথা অনুভব করার জন্য আপনাকে হতে হবে উদার। উদার চিন্তা-চেতনা ছাড়া মানুষ অন্যের পাশে দাঁড়াতে পারে না।

সহনশীলতা: পিঁপড়ার দুটি পাকস্থলী। একটি পাকস্থলীতে সে তার খাবার নিজের জন্য, আরেকটাতে খাবার জমিয়ে রাখে অন্যদের জন্য। শর্তহীনভাবে পিঁপড়া তাদের খাবার গোত্রের অন্য পিঁপড়াকে দেয়। তাই আমরা যদি অবশিষ্ট খাবার, পুরোনো কাপড় ফেলে না দিয়ে বা আলমারিতে বন্দি না করে অসহায় মানুষকে দেই, তাহলে অন্তত কিছু মানুষের উপকার হবে।

পরোপকারিতা: পিঁপড়া পরের উপকার করতে প্রস্তুত থাকে। কোথাও কোনো মানুষ বা প্রাণি তাদের কাউকে আঘাত করলে বা কোন বিপদ সংকেত পেলে মুহূর্তের মধ্যে অন্য পিঁপড়াকে জানিয়ে দেয়। অন্য পিঁপড়ার উপকার করার জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত থাকে। একজন কোনো বিপদ সংকেত পেলে তা মুহূর্তের মধ্যে সবার মাঝে ছড়িয়ে যায়। তখন তারা দল ভেঙে ছুটে পালায়। একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যরা তাকে বহন করে বাসস্থানে পৌঁছে দেয়। সেবা-যত্ন করে। তাই অন্যের উপকার করার মানসিকতা আমাদেরও থাকতে হবে। পিঁপড়ার মধ্যে রয়েছে প্রবল গোত্র প্রেম। আমাদের মধ্যেও থাকা উচিত দেশপ্রেম। নিজের দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিপ্রেম আমাদের এগিয়ে দেবে কয়েক ধাপ।

শৃঙ্খলাবোধ: তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে লাইন করে চলাফেরা করে। মেঝে, মাঠ বা রাস্তা-যেখানেই হাঁটাচলা করে বা খাবার জোগাড় করে, তারা শৃঙ্খলা নিয়ে দলবেঁধে চলাফেরা করে। তাদের দল সমান্তরাল থাকে। এক লাইনে চলতেই থাকে তাদের পথচলা।

বৈরী পরিস্থিতিতে টিকে থাকার প্রবণতা: পিঁপড়া বৈরী পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট পারদর্শী। শীতকাল তাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে তারা গরমকালে জরুরি কাজগুলো সেরে রাখে। যেমন খাবার জোগার, তাদের থাকার নিরাপদ জায়গা ঠিক করা। শীতকালে যেন কষ্ট না হয়, সে জন্য গরমকালে তাদের নিরাপদ বাসস্থান ঠিক করে রাখে। তাদের আক্রমণ না করলে, তারা সাধারণত কামড় দেয় না। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের পিঁপড়া দেখা যায়। লাল ও কালো। দুই ধরনের পিঁপড়া একই রকম বৈশিষ্ট্যের।

ধৈর্য: ছোট এ প্রাণির ধৈর্য প্রবল। ধৈর্যের জন্য দীর্ঘ বছর ধরে দুঃখ-কষ্টের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে আছে। বাঘের প্রচণ্ড ক্ষুধা পেলে সে শিকার করতে না পারলে নিজের সন্তানকে পর্যন্ত খেয়ে ফেলে। কিন্তু পিঁপড়া কখনোই এ কাজ করে না। ধৈর্য ধরে শীতকালের খাবার গরমকালে সংরক্ষণ করে। তাই পিঁপড়ার মতো আমাদেরও দরকার ধৈর্য। জীবনে কষ্ট আসবেই। আমরা যদি বিপদে ধৈর্য ধরার চেষ্টা করি, তাহলে আমরা বহুবিধ সমস্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি পাবো।

রুটিন মেনে চলে: ক্ষুদ্র এ প্রাণি রুটিন মেনে চলে। তাদের সবার কাজ ভাগ করে দেওয়া থাকে। তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করে। ক্লান্তি তাদের পেছনে ফেলতে পারে না। তাই আমাদেরও পিঁপড়ার মতো পরিশ্রমী হতে হবে। সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। আমরা যদি অমাদের কাজ, চিন্তা, চেতনায় সততা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারি, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •