প্রচ্ছদ

আঁধারে ডুবে ধর্ষণের প্রতিবাদ

০৬ অক্টোবর ২০২০, ২২:০১

বাংলা সংবাদ ডেস্ক

ঘোর অমানিশা। এমন আঁধার দেখেনি পৃথিবী। ধর্ষিতার গগনবিদারী চিৎকারে নিভে গেছে সমস্ত আলো। এখন আঁধারে বাঁচো। আঁধারে ডুবেই জ্বালো দ্রোহের মশাল। আঁধার মেখেই হোক প্রতিবাদ, সকল আঁধারের বিরুদ্ধে। আলো আসবেই।

আলোর আশাতেই মানুষ আজ প্রতিবাদী। দুর্বলের ওপর সবলের যে জুলুম, তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে বিবেকবান মানুষ। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সম্ভ্রম হারানো নারীর জন্য কাঁদছে মানুষ, কাঁদছে দেশ। সভ্যতার এমন লগ্নে এ কেমন বর্বরতা! এ কেমন পাশবিকতা! আর ধর্ষণের ঘটনা চাপা পড়ছে, আরেকটি ধর্ষণ দিয়ে। তাও আবার বর্বরতার ভিন্ন ভিন্ন রূপে।

যেন দম বন্ধ হয়ে আসার সময় এখন। মাটি নীলাভ হচ্ছে ধর্ষিতার রক্তে। বাতাস ভারি হচ্ছে, ধর্ষিতার হাহাকারে। মানুষ মুক্তি চায়। মুক্তির জন্য প্রতিবাদের ভাষাও বদলায়।

এমনই বদলে যাওয়া প্রতিবাদ ‘ঘোর অন্ধকার’ বা কালো চিহ্ন ধারণ করা। এর এই প্রতিবাদী চিহ্নই এখন ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। নোয়াখালী বেগমগঞ্জের নির্যাতিত নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে মানুষ শোকের প্রতীক ‘কালো’ ধারণ করে।

গত সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কালো প্রতীকটি ব্যবহার করে অনেকে ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে থাকে। একদিনের ব্যবধানেই অভিনব এই প্রতিবাদের প্রতীক ভাইরাল হতে দেখা যায়। অনেকে তার ফেসবুকে ওয়ালে প্রতীকটি ব্যবহার করেন। অনেকেই আবার প্রোফাইল করেন।

আইলা সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি এলিনা ফিরোজ তার ফেসবুক ওয়ালে কালো প্রতীক ব্যবহার করে ধর্ষণের প্রতিবাদ করেছেন।

জাগো নিউজের কাছে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদ জানানোর আর ভাষা নেই। সময় তো আঁধারে ডুবে গেছে। করোনা মহামারিকালে ধর্ষণের যে মহামারি শুরু হয়েছে, তাতে মুক্তির কোনো পথ আছে বলে জানা নেই। নারীর জন্য সমস্ত পথ আটকে যাচ্ছে। পাহাড়-সমতলে সব জায়গাতেই নারী ধর্ষিত হচ্ছে। আঁধারে ডুবেই আলোর জন্য অপেক্ষা করছি’।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৩২ দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রোববার (৪ অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখে স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা।

এরপর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে তারা মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করে।

এদিকে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েপড়া ভিডিওটি অনলাইন মাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বলা হয়েছে, একটি ভিডিওর কপি সংরক্ষণে রাখতে। ২৮ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

একই সঙ্গে ভিকটিমের পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে স্থানীয় পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তের জন্য সেখানকার স্থানীয় সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল, সমাজসেবা অফিসারসহ তিনজনের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নোয়াখালীতে গৃহবধূকে নির্যাতনসহ সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনায় বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে সম্মিলিত ছাত্র-জনতা। রাজধানীর উত্তরা ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের সাথে কানেক্টেড থাকুন

আমাদের মোবাইল এপ্পসটি ডাউনলোড করুন